১১ দিনের বাড়তি পয়েন্ট একদিনেই বিলীন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১২:২৯ এএম

সাম্প্রতিক সময়ের ঊর্ধ্বগতিতে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকে যে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছিল, গতকাল একদিনের দরপতনে তা হারিয়ে গেছে। চলতি মাসের ১১ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছিল ৫৪ পয়েন্ট। আর গতকাল লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৮ শতাংশের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৫৮ পয়েন্ট। মূলত সূচকে প্রভাব বিস্তারকারী বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরহ্রাসে মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই মূল্যসূচকের নিম্নমুখী ধারা দেখা যায় এবং বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দরহ্রাসে শেষ পর্যন্ত মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। বাজারের শীর্ষ মূলধনী কোম্পানি গ্রামীণফোন, বিএটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, রেনেটা, আইসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, বার্জার ও ম্যারিকোর শেয়ারের দর কমে গেছে, যা সূচক পতনে প্রধান ভূমিকা রাখে। শুধু গ্রামীণফোন, বিএটি বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকের ২২ পয়েন্ট কমে। গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫৮ পয়েন্ট কমে ৫১৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২৭৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির। খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দর কমায় বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত ১ দশমিক ৬ শতাংশ, খাদ্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ, বস্ত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রকৌশল ১ দশমিক ৩ শতাংশ, সাধারণ বীমা ১ দশমিক ৯ শতাংশ, টেলিযোগাযোগ ১ দশমিক ১ শতাংশ, এনবিএফআই ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যাংক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ দর হারায়। তবে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ২ শতাংশ দর হারিয়েছে নির্মাণ ও সেবা খাত। এর বাইরে ফার্মাসিউটিক্যালস ও সিমেন্ট খাতও দর হারিয়েছে। বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবন বীমা খাতের বাজার মূলধন সামান্য বেড়েছে। 

এদিকে দরপতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কেনাবেচার পরিমাণ কমে গেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

তবে ডিএসইতে কমলেও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা বেড়েছে। গতকাল সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১২ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, যা আগের দিনের তুলনায় ৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেশি।

আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও ডিএসইতে লেনদেনে প্রাধান্য বজায় রেখেছে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত।

গতকাল এ খাতটিতে ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া প্রকৌশল, বস্ত্র ও জ¦ালানি খাত লেনদেনের পরবর্তী অবস্থানে ছিল। একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার, সিলকো ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বিকন ফার্মা, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, ভিএফএস থ্রেড ও অ্যাডভেন্ট ফার্মায়।

গতকাল দরপতনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত লোকসানি কোম্পানি জিলবাংলা সুগার মিলসের। এ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এদিকে আগের দিন অভিহিত মূল্যের নিচে থাকা যেসব কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল, গতকাল সেসব কোম্পানির শেয়ারদরই সবচেয়ে বেশি কমেছে। গতকাল ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে থাকা সিকিউরিটিজগুলো হচ্ছেÑ এসইএমএলএফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, ঢাকা ডাইং, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, অ্যাপোলো ইস্পাত, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিআইএফসি, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, কেয়া কসমেটিক্স, ফ্যামিলি টেক্স ও তাল্লু স্পিনিং মিলস। এসব সিকিউরিটিজ ৭ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত