সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের যে তিন বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে বিএনপিপ্রধান সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই আইনজীবী সংগঠন।
গতকাল সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার উদ্দেশে এ আহ্বান জানান সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘তিনজন বিচারপতিকে বিচারকার্য থেকে সাময়কিভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা পরিষ্কার নয়। তারা কি আর্থিক দুর্নীতিগ্রস্ত না অন্য কিছু তা আমরা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচারপতিরা যদি আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হন, সেটি যেমন দুর্নীতি, তেমনি তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করাও দুর্নীতির পর্যায়ে পড়ে। কোনো বিচারপতি যদি সংবিধানের শপথের মাধ্যমে অঙ্গীকারবদ্ধ দায়িত্ব পালন না করে সরকারের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে ফরমায়েশি রায় দেন, তাহলে তিনিও দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতি বলে আমরা মনে করি।’ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিচার বিভাগ থেকে জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে সকল প্রকার দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমরা কামনা করি। কিন্তু আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি পরিষ্কার করছেন না। যা দুঃখজনক।’
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে বিধিমালা তৈরির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচারপতি নিয়োগের বিধিমালার বিষয়ে বার সমিতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বারবার তাগাদা দিলেও সরকার ওই দাবিকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারক নিয়োগ প্রদান করে। দেশের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে বিধিমালা তৈরি করে নিয়োগ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।’
এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘শুধু এ তিনজনই নয়, আরও কয়েকজন বিচারপতির বিষয়ে আমরা প্রধান বিচারপতিকে সময়ে সময়ে অবহিত করেছি। আশা করি তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে এর পক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বারসহ দেশের সকল জেলা বারে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
