‘মিয়ানমারের কাছে শেখ হাসিনা সরকার নতি স্বীকার করেছে’ বিএনপির এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমার সরকার যে উসকানি প্রথম থেকে আজ দুবছর পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছে, একই উসকানির সুরে কথা বলছে বাংলাদেশের একটি দল বিএনপি এবং তার মহাসচিব মির্জা ফখরুল। আজ সারা দুনিয়া মানবতার মা শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে। আর বিএনপি প্রতিনিয়ত রীতিমতো উসকানির সুরে কথা বলে যাচ্ছে।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারা প্রতিপালন করেছে। সারা দুনিয়ায়, দেশে দেশে, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ এমনকি মিয়ানমারের বন্ধুদের কাছে পর্যন্ত তদবিরের পর তদবির কারা করেছে?’ বিএনপি দুদিনের জন্য রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়ে ফটোসেশন করেছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করছে, এটাকে শেখ হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক সফলতা দাবি করে কাদের বলেন, ‘তারা তো নিতেই চায়নি রোহিঙ্গাদের। এখন তারা ভেতরে যা-ই থাক, মনের ইচ্ছা যা-ই থাক, চাপের মুখে তারা এদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করছে। সেটাও আমাদের কূটনৈতিক সফলতা।’
বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দেড় বছর কারাগারে রেখে রাস্তায় উত্তাপ ছড়াতে পারেননি। আন্দোলন করতে পারেননি। এখন আগস্ট মাসে এসে বেগতিক অবস্থায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কখনো গণতন্ত্র নেই, কখনো বাকশাল, কখনো আবার রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ, এসব বিষয়ের ধোয়া তুলে নিজেদের দায় এড়াতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘নিজের দলেই যাদের গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্রের সংকট আবিষ্কার করছে।’
বিএনপির নেতাদের বেপরোয়া চালকের সঙ্গে তুলনা করে কাদের বলেন, নিজেদের অপরাধের দ্বার উন্মোচিত হওয়ায় এরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মিথ্যার বেসাতি করছে। বিষোদগার করছে। যেখানে কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতির পরিশুদ্ধ কোনো ভাষাও ব্যবহার করতে এরা ভুলে গেছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্টের ট্র্যাজেডিতে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা এখন আর নতুন করে প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। আদালত প্রমাণ করেছে। ইতিহাসের আদালতে প্রমাণিত হচ্ছে। জনতার আদালতে এদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে একটা প্রশ্ন করেছি। তার জবাব আজও পাইনি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন, বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন। এই খুনিদের বিচারের পথ কেন রুদ্ধ করতে চাইলেন। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে হন্তারকদের বিচার বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে কেন সংবিধানকে কলঙ্কিত করলেন? এই প্রশ্নের জবাবও আপনারা দিতে পারেন না। এখানেই তো এই ট্র্যাজেডিতে আপনাদের সংশ্লিষ্টতার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। এই সত্য আপনারা কোনোদিনও স্বীকার করেন না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে পরিষ্কার ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। আর ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তার সন্তান তারেক রহমান।’
আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।
