হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন

নুসরাতের ঘটনায় মাদ্রাসা চেয়ারম্যানের নিষ্ক্রিয়তা নেই

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৩ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পি কে এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলা পায়নি এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব বক্তব্য এসেছে সেগুলোরও সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, ‘নুসরাতের মায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা জেল হাজতে থাকায় মামলার বিষয়ে তার সরাসরি কিছু করার নেই মর্মে এডিএম পি কে এনামুল করিম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আইনসংগত।’ শুনানি নিয়ে আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেয়নি।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলে, ‘যখন অভিযোগ করা হয়েছিল এবং ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখন তা নেওয়া হয়নি। তাদের অবহেলা ছিল না এটি বলা যাবে না। মামলা হলেও এ বিষয়ে তার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।’ 

এর আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে তাকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তখনকার চেয়ারম্যান পি কে এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তা বা অবহেলা ছিল কি না তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। হাইকোর্টের আদেশের পর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।   

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজীতে স্থানীয় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করলে নিপীড়নকারী ওই অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন তিনি। গত ৬ এপ্রিল সকালে ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী কয়েকজন। ওই দিন বিকেলে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল হার মানেন নুসরাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত