ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা নিধনে ব্যর্থতা ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রতি এ অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতে ডিএনসিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম। ডিএসসিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। রিটকারী হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদও শুনানিতে ছিলেন।
ধুলায় দূষণ রোধে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দুই সিটি করপোরেশনের নেওয়া পদক্ষেপ অবহিতকরণের সময় প্রসঙ্গক্রমে এডিস মশা ও ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে বেশকিছু আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের এ বেঞ্চ। এর মধ্যে মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আনার (নতুন ওষুধ আনার আগে) জন্য কারা দায়ী এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা ছিল।
এডিস মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি করায় (নতুন ওষুধ আনার আগে) কারা দায়ী, গতকাল সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি ছিল। ওই সময় দুই সিটি করপোরেশনের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘এখন আপনারা তৎপর হয়েছেন। যদি আরও আগেই তৎপর হতেন, তা হলে ডেঙ্গুতে এতগুলো মানুষের প্রাণ যেত না। এতগুলো লোক মারা গেল। দুই সিটি করপোরেশন এখানে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।’
হাইকোর্ট আরও বলে, ‘যদিও রাজধানীতে ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণ এবং এই নিয়ে এ মামলার প্রেক্ষিত ছিল, কিন্তু তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনা করে এডিস মশা নিয়ে আমরা আদেশ দিয়েছিলাম। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা বলে আসছি। তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি। যদি যথাসময়ে তারা ব্যবস্থা নিত তা হলে আজকে এমন পরিস্থিতি হতো না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনাম দেশ রূপান্তরকে জানান, শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বলে, যেহেতু একই ইস্যুতে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে রুল বিচারাধীন রয়েছে; তাই ওই বেঞ্চেই বিষয়টির একসঙ্গে শুনানি হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা জানান, আগের ওষুধ কীভাবে আনা হয়েছিল, কারা এনেছিল, কেন ওষুধ কাজ করেনি, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এখন আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে কারা এর জন্য দায়ী।
