সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কে এম সফিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাকে সেনাপ্রধান ও জিয়াউর রহমানকে উপপ্রধান করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভুল করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে শোকাবহ আগস্ট স্মরণে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ ৭১ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সফিউল্লাহ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মধ্য থেকেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তখন ছিলাম সেনাপ্রধান। আমাকে সেনাপ্রধান করে আর জিয়াউর রহমানকে উপপ্রধান করে বঙ্গবন্ধু একটা মস্ত বড় ভুল করেছিলেন।’
জ্যেষ্ঠ হওয়ায় জিয়াউর রহমানকে উপপ্রধান করাটা ঠিক হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু সেনাপ্রধান হতে চাইনি। জেনারেল ওসমানী ৫ এপ্রিল ডেকে বললেন, ‘তুমি আর্মি টেক ওভার করো।’ আমি বললাম, ‘আমার তিনজন সিনিয়র আছে। কর্নেল রব, দত্ত ও জিয়াউর রহমান।’
আমরা একই ব্যাচের হলেও জিয়াউর রহমান আমার চেয়ে ১ নম্বরের সিনিয়র ছিলেন। তখন আমি বললাম, ‘স্যার, এ সময়ে কি কাজটা করা ঠিক হবে? আমাদের মধ্যে তো একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত হোক আর যাই হোক, এটা ঠিক হচ্ছে না।’
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সফিউল্লাহ বলেন, ‘আমি জানি, অনেকেই বলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় আমি সেনাপ্রধান ছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে পারিনি। আমার সে সময় সামর্থ্য ছিল না। কী করতে পারতাম? ওই সময়ে কিছু করার মতো আমাদের পজিশন ছিল না।’
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সপরিবারে জাতির পিতার খুনিদের বিচার হলেও এর মূল পরিকল্পনাকারীদের এখনো চিহ্নিত করা হয়নি। বিশেষ কমিশন গঠন করে এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা এখন গণদাবি। কারণ এই লোকগুলো শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়; মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করার জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার জন্য এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদকে হত্যা করার জন্য এই ঘৃণ্য ঘটনা সংঘটিত করেছিল।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা কোনো ব্যক্তির হত্যা নয়। স্বাধীনতা, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক। তিনি এমন একজন নেতা, যিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন, সারা জাতিকে সেই স্বপ্ন দেখিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং জীবদ্দশায় সেই স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। দুনিয়াতে আর কোনো বিপ্লবী এটা করতে পারেননি।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী, সহ-সভাপতি ও সাবেক আইজিপি নুরুল আলম, মহাসচিব হারুন হাবীব, সাবেক আইজিপি আবদুল মাবুদ প্রমুখ।
