রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার স্বামীবাগে জান্নাত নামে এক বছরের শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুটির মা সোনিয়া আক্তার (৩০) নিজেও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। গেণ্ডারিয়ার থানা পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতার ফলে হতাশাগ্রস্ত মা শিশুটিকে বিষ খাইয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। খুলনার রূপসা উপজেলার আইজগতি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সোনিয়া স্বামীবাগের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। আনোয়ার নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী কোম্পানিতে চাকরি করেন। ৩ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। জান্নাত তাদের ১ম সন্তান।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। তার মা সোনিয়া ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। গে-ারিয়া থানার এসআই উত্তম কুমার বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষের বাটি ও বিষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি সোনিয়া নামে ওই নারী বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে হতাশা থেকে তিনি শিশুসন্তানসহ বিষপান
করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক মাস আগে তার জরায়ুতে অপারেশন করা হয়। তার পর থেকেই হতাশাগ্রস্ত থাকতেন।’
সোনিয়ার স্বামী আনোয়ার জানান, সোমবার রাতে তার নাইট ডিউটি ছিল। সকাল ৭টার দিকে সোনিয়া ফোন করে জানতে চান তিনি কখন বাসায় ফিরবেন। দেরি হবে জানালে সোনিয়া তাকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ার বাসায় ফিরে দেখেন শিশু ও তার স্ত্রী দুজনই মেঝেতে পড়ে আছে। মুখ দিয়ে লালা ঝরছে। তিনি বলেন, তাদের দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা দুজনের পাকস্থলী ওয়াশ করান। সকাল ৯টায় শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর সোনিয়াকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
সোনিয়ার ভাগনি সুবর্ণা আক্তার (১২) বলে, ‘অসুস্থতার কারণে খালা কোনো কাজই করতে পারত না। আমিই তাদের রান্নাসহ সব কাজ করে দিই। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম। সকালে সোনিয়া খালা নীল রঙের ওষুধ পানি দিয়ে মিশিয়ে ছোট চামচ দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থাতেই বাচ্চাকে খাওয়ায়। এরপর মগে ভরে নিজে খায়।’
