সংকটে বিআইএফসি

সুকুজা ভেঞ্চারকে দায়ী করলেন মেজর মান্নান

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০১:১২ এএম

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি নিয়েছে। আর এসব ঋণ পরিশোধ না করায় সংকটে পড়েছে বিআইএফসি। তবে বিআইএফসির এই সংকটের জন্য তিনি দায়ী করেছেন সুকুজা ভেঞ্চার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। গতকাল বিআইএফসিকে ঋণ দেওয়া ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে  মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের সঙ্গে বিআইএফসিকে ঋণ প্রদানকারী ৩০টি ব্যাংক ও লিজিং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক মতবিবিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেজর মান্নান তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বিআইএফসির বর্তমান অবস্থা ও এর নেপথ্যের কারণগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করেন।

আলোচনাকালে উপস্থিত ব্যাংক ও লিজিং কর্মকর্তারা জানান, তারা বিআইএফসি’র তৎকালীন আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি মেজর মান্নানের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও সামাজিক সুনামের কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ প্রদান করেছেন। শুরু থেকে সব কিছু ঠিক মতো চলার পর বিগত ৩ থেকে ৪ বছর যাবৎ তারা ঋণের কোনো অর্থই ফেরত পাচ্ছেন না বলে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জবাবে মেজর মান্নান বলেন, আমাদের এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে একটি “ব্যাংক খেকো” দুষ্টচক্র ‘সুকুজা ভেঞ্চার লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে ৫ শতাংশ সাধারণ শেয়ার ক্রয় করে দুইজন ব্যক্তি বিআইএফসির পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। এর অল্পদিনের মধ্যেই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত দুজন পরিচালকসহ সেই চক্রটি বাকি ৯৫ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার পরিচালকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ও বিভিন্ন অজুহাতে সরিয়ে দেয়। এরপর ওই দুই পরিচালক অতিরিক্ত পাঁচজন ব্যক্তিকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে ‘কো-অপ্ট’ করে নেয় এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এর পর থেকেই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে কৃত্রিম লোকসানি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ছলে-বলে-কৌশলে প্রতিষ্ঠানটিকে কুক্ষিগত করার জন্য বিভিন্ন পন্থা চালিয়ে যাচ্ছে ।

মান্নান বলেন, বিগত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) নির্বাচনের মাধ্যমে ৬ জন নতুন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

উপস্থিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে মেজর মান্নান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন পরিচালনা বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিআইএফসির সব আমানতকারী ব্যক্তি ও ঋণদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই আমানত ও ঋণের সমুদয় অর্থ পরিশোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, বিআইএফসিতে মেজর মান্নান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার প্রায় ৬২ শতাংশ। তিনি ও তার সানম্যান গ্রুপ বিআইএফসির ৬২ শতাংশ শেয়ারের কর্ণধার হওয়ায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিজে, পরিবারের সদস্য ও গ্রুপের কর্মকর্তাদের পরিচালক বানিয়ে বিআইএফসি পরিচালনা করতেন। আর এ সময়ই বিভিন্ন কায়দায় বড় অংশের টাকা বের করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন, বিআইএফসির বার্ষিক প্রতিবেদন, স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত