বিষ খাইয়ে শিশু হত্যায় অভিযুক্ত মা সোনিয়া আক্তার (৩০) সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়ও দীর্ঘক্ষণ জ্ঞান ছিল না সোনিয়ার। পরে জ্ঞান ফিরলেও কাউকে চিনতে পারছিলেন না। ধীর ধীরে স্বাভাবিক হলেও তখন থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে বকাঝকা করতেন। গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সোনিয়ার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়।
গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে জান্নাত নামের এক বছরের মেয়েকে বিষ খাওয়ানোর পর নিজেও বিষ খান মা সোনিয়া। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় শিশু জান্নাতের। মা সোনিয়া হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন। তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, সোনিয়ার পাকস্থলী ওয়াশ করার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। গতকালই তার জ্ঞান ফিরেছে। তিনি খেতে পারছেন। তবে এ ধরনের রোগীকে এখনই আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেডিসিন বিভাগের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় ফ্লোরে শুয়ে আছেন সোনিয়া। তার শরীরে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। যাকেই দেখছেন কথা বলার জন্য ডাকাডাকি করছেন। খুঁজছেন তার মেয়েকে। এখনো জানেন না তার সন্তান আর বেঁচে নেই। যাকে দেখছেন তাকেই বলছেন, ‘খেতে দিলেই আমি সুস্থ হয়ে যাব। আমাকে খেতে দাও।’ এ সময় তার পাশে স্বামী আনোয়ার হোসেন, ভাই সাদ্দাম হোসেনসহ স্বজনরা ছিলেন।
সোনিয়ার স্বামী আনোয়ার বলেন, ‘সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকার সময় বাথরুমে পড়ে মাথায় আঘাত পায় সোনিয়া। তখন থেকেই মানসিক সমস্যা শুরু হয়। এরপর বাচ্চা হওয়ার সময় সে সিজার করতে বারণ করে। মিটফোর্ড হাসপাতালে চার ঘণ্টা থাকার পর স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা না হলে সিজার করতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। তখন দীর্ঘসময় সংজ্ঞাহীন ছিল সোনিয়া। জ্ঞান ফিরে আর কাউকেই চিনতে পারছিল না। বেশ কয়েক দিন এমন অবস্থায় ছিল।’ তিনি আরও জানান, মাস দেড়েক আগে তার জরায়ুতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। কোনো কারণ ছাড়াই বকাঝকা করতেন। সোনিয়ার বড় বোন বাসায় থাকতেন। বকাঝকার কারণে তিনি রাগ করে চলে যান।’
সোনিয়ার ভাই সাদ্দাম বলেন, ‘আপার বিষ খাওয়ার খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে এসেছি। আপা অনেক দিন থেকেই অসুস্থ। বিয়ের পর থেকেই মাঝেমধ্যে মানসিক সমস্যা বাড়ত আবার কমত। প্রায়ই ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলত। না এলে পাগলামি শুরু করত।’ তিনি বলেন, ‘আপার মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে জান্নাতের মৃত্যুর খবর এখনো জানানো হয়নি। সে বারবারই মেয়ে কোথায় জানতে চাচ্ছে।’
এ বিষয়ে গে-ারিয়া থানার এসআই উত্তমকুমার বলেন, ‘শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত ও দাফন হয়েছে। মায়ের শরীরও কিছুটা ভালো। আমরা মায়ের সুস্থতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এখনো কোনো মামলা হয়নি, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
