স্বামীকে না পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গেল পুলিশ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০৩:২৯ এএম

আটোরিকশা চালক রমজান আলীকে বাড়িতে না পেয়ে স্ত্রী আমেনা বেগমকে (২৩) ধরে নিয়ে যান শ্রীপুর থানার এসআই আবু জাফর মোল্লা। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের আতলড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার বিকেলে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট রাতে আতলড়া গ্রামের রাস্তার পাশে স্থানীয় লোকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী আকবরকে অজ্ঞান ও আহতাবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আহত ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে নিতে রমজান আলীকে অনুরোধ করেন স্থানীয়রা। অটোরিকশায় চার্জ না থাকা ও ভয়ে চালক রমজান আলী এতে রাজি হননি। পরে অন্য উপায়ে আহত আলী আকবরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি সেখানে মারা যান।

আলী আকবর নিহতের ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি মামলা হয়। এই মামলার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসআই আবু জাফর মোল্লা মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রমজান আলীকে খুঁজতে তার বাড়িতে যান। এ সময় সে বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িও ঘোরেন। কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য্য নারায়ণপুর গ্রামে আমেনা বেগমের বাবার বাড়িতেও যান। সেখানে খোঁজাখুঁজি করে আমেনার দুই বছরের শিশুকন্যাকে নানি হামিদা বেগমের কাছে রেখে তাকে থানায় নিয়ে যান। অথচ তাদের নামে কোনো মামলা বা অভিযোগও নেই।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই আবু জাফর মোল্লা বলেন, ওই নারীর নামে কোনো মামলা নেই। তাকে একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। পরে বুধবার দুপুরে তাকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ও ১৮৮ ধারায় পুলিশ এ কাজ করতে পারে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রমজান আলীর খোঁজে তার বাড়িতে যায়। ব্যবসায়ী আলী আকবরের হত্যাকা-ের ব্যাপারে রমজান আলীর স্ত্রীর কাছে কিছু তথ্য জানার জন্য তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। আমেনা বেগম পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অটোরিকশা চালক রমজান আলীকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত