টেকসই ব্যাংকিংয়ে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১০:৫৮ পিএম

টেকসই ও গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। টেকসই ব্যাংকিং নিশ্চিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশÑ তিন ক্ষেত্রেই অগ্রগতি সাধন করতে হবে। এটি সম্ভব হবে ব্যাংক খাতে সুশাসন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের মাধ্যমে।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সাসটেইনেবল ব্যাংকিং অ্যাক্টিভিটিস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়, আগামী দিনে টেকসই ব্যাংকিংয়ের আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, শস্য গুদাম ঋণ এবং গ্রিন ট্রান্সপোর্টেশন খাতে অর্থায়ন গুরুত্ব পাবে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে টেকসই ব্যাংকিংয়ের জন্য কাজ করছে। এজন্য গ্রিন ব্যাংকিং, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ও ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রিন ব্যাংকিংয়ের উদ্যোগ ব্যাংকার ও গ্রাহকের মধ্যে পরিবেশের ঝুঁকি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেছে। গ্রিন ব্যাংকিংয়ে এখনো এগিয়ে বেসরকারি বাণিজ্যিকগুলো। এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিএসআরের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ ও দুর্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, বিআইবিএমের গবেষণায় টেকসই ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে অনেক কিছু সুস্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু চিহ্নিত করেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংক খাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। এজন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন। ব্যাংক কর্মীদের প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, টেকসই ব্যাংকিং কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই ব্যাংকিং লাভজনক করতে পণ্যে বৈচিত্র্য থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, টেকসই ব্যাংকিংয়ের নামে কোনো অপচয় করা যাবে না। টিকে থাকতে হলে অযাচিত পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। ব্যাংক খাতে এখন টেকসই রূপ নিয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

ব্যাংক এশিয়ার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা বলেন, অর্থনীতিতে টেকসই ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের সব ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংককে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার মোর্শেদ মিল্লাত বলেন, টেকসই ব্যাংকিংয়ের জন্য প্রথমে মানসিকতা তৈরি জরুরি। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. তৌহিদুল আলম খান, বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. নেহাল আহমেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত