লর্ডসে তার গতিময় বাউন্সার ঘাড়ে লেগে আহত হয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। কনকাশনের শিকার হয়ে হেডিংলি টেস্টই খেলতে পারেননি। জোফরা আর্চার অবশ্য বহাল তবিয়তে গতির ঝড় তুলেছেন। তবে ইংল্যান্ডের নতুন পেস সেনসেশন কেবল গতিসর্বস্ব হয়েই থাকতে চান না। জানিয়ে দিয়েছেন, উইকেট নিতেই তিনি ক্রিকেট খেলতে এসেছেন।
হেডিংলি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন আর্চার। অস্ট্রেলিয়ার ১৭৯ রানের জবাবে ৬৭ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ রানের টার্গেট পায় তারা, যা বেন স্টোকসের ১৩৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর ছুঁয়ে ফেলে ইতিহাস গড়ে স্বাগতিকরা। সিরিজে ফেরে ১-১ সমতা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে চতুর্থ টেস্ট। বিশ্রাম এবং প্রস্তুতির জন্য বেশ কয়েকদিন হাতে সময় পাচ্ছেন আর্চার। আছেন ফুরফুরে মেজাজে। মন্তব্য করেছেন হেডিংলি টেস্টে নিজের আউট নিয়েও। ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আর্চার যখন প্যাভিলিয়নে ফেরেন তখন জেতার জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৭৩ রান। আর্চার বলেছেন, ‘আমি বেনের (স্টোকস) কাজটা একটু সহজ করে দিতে চেয়েছিলাম। সত্যি কথা বলতে ৩৫০ অনেক বড় টার্গেট। সঙ্গে সমর্থকরা চেঁচাতে শুরু করলে অজিদের মনে ভয় ধরে যায়। তাছাড়া দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিয়ে তারা হয়তো ভেবেছিল আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। তবে তারা যেমনটা চেয়েছিল তা ঘটেনি। আমরা খুশি যে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিলাম।’
শেষ পর্যন্ত স্টোকসের অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং জ্যাক লিচের বিখ্যাত ১ রানে অ্যাশেজে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। এমন জয়ের পর আর্চার বলেছেন, ‘সিরিজ শেষ হয়ে যায়নি। পরের ম্যাচগুলোতে তারা দ্বিতীয়বার ভাববে। আমি মনে করি না তারা দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করবে। তারা খুব আক্রমণাত্মক হতেও পারবে না। ফলে আমার মনে হয় পরের টেস্টে তারা অন্যরকম খেলবে।’
স্মিথের ঘাড়ে লাগা সেই বিধ্বংসী বাউন্সার নিয়ে আর্চার বলেছেন, ‘ওই জায়গায় (ঘাড়ে) আঘাত লাগার আশঙ্কা খুবই কম থাকে। স্মিথের দুর্ভাগ্য যে বলটা হেলমেটে বা কাঁধে না লেগে ওই জায়গায় আঘাত করে। তবে আমি জিততে এসেছি। আমার অতিরিক্ত গতি যদি ওদের সমস্যায় ফেলে এবং মনে ভয় জাগায়, তা হলে তা আমার জন্যই সুবিধার।’ দুই দিন আগে স্মিথ বলেছেন, ‘আর্চার আমাকে আউট করতে পারেনি।’ গতকাল আর্চারকে এই মন্তব্য শোনানোর পর হাসতে হাসতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাকে আউট করতে পারিনি কারণ তখন সে মাঠে ছিল না। লর্ডসে যখন সে আবার ব্যাট করতে নেমেছিল তখন আমি বোলিং করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বল হাতে আমার ফেরার আগেই সে আউট হয়ে যায়। যা হোক আশা করি তাকে আউট করার সুযোগ আমি পরে পাব।’
জেমস অ্যান্ডারসনের ইনজুরির সুযোগেই টেস্ট অভিযোগ হয়েছিল আর্চারের। ইনজুরি কাটিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরতে চলেন জিমি। এ প্রসঙ্গ নিয়ে আর্চার বলেছেন, ‘জিমির মতো বিশ্বমানের বোলার দলে ফেরায় আমাদের সুবিধাই হবে। ওর অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা যে কোনো ব্যাটিং অর্ডারকে সমস্যায় ফেলবে। ও ফেরায় আমাদের দায়িত্বটাও অনেকটা ভাগ হবে।’ সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের হয়ে যে সাফল্য পেয়েছেন তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন আর্চার, ‘গত কয়েক মাসেই সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অভিষেক ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে দল প্রচুর ম্যাচ জিতেছি। ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, অনেক সাফল্য পেয়েছি যা এত অল্প সময়ে পাব বলে আমি কখনো আশা করিনি। এই সাফল্যে আমি উচ্ছ্বসিত।’ লর্ডস এবং হেডিংলিতে ঘণ্টায় ৯৬ মাইল বেগে বল করেছেন আর্চার। ইংল্যান্ডের উইকেটগুলোর মধ্যে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের উইকেট সবচেয়ে গতিময় আর বাউন্সি। সেখানে কি আরও জোরে বোলিং করবেন আর্চার? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘আমি আশাবাদী, তাই উত্তরে হ্যাঁ বলব। দ্রুত বোলিং করলেই উইকেট পাওয়া যায় না, আপনাকে ঠিক জায়গায় বলটা রাখতে হবে। আমি এখানে দ্রুত বল করতে চাই আবার উইকেটও নিতে চাই।’ তিনি যে উইকেট নিতে পারেন হেডিংলিতে তা প্রমাণ করেছেন। আবার ম্যানচেস্টারে তা প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন আর্চার।
