বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন মঞ্জুর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তবে রিফাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামি এখনো
গ্রেপ্তার না হওয়ায় হামলার আশঙ্কায় প্রতিনিয়ত দিন কাটাচ্ছে তারা। এ পরিস্থিতিতে পলাতক ওই চার আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
মিন্নির জামিন আদেশের সময় ঢাকার উচ্চ আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। আদেশের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সেখান থেকে মোবাইল ফোনে তিনি দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘হাইকোর্ট আমার মেয়েকে জামিন দেওয়ায় আমি খুশি হয়েছি। মিন্নির জামিনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো, বাংলার মাটি থেকে ন্যায়বিচার উঠে যায়নি। আমার মেয়ে নির্দোষ, ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাই আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি। যেকোনো সময় আমার ওপর হামলা হতে পারে। সন্ত্রাসীরা খুবই ভয়ানক, তাদের পেছনে অনেক লোক আছে যারা আমার মেয়েকে ফাঁসিয়ে খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। আইনের প্রতি আমার আস্থা আছে। সেই আস্থার জায়গা থেকেই আমি পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করবÑ যে আসামিরা এখনো ধরা পড়েনি তাদের যেন গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।’
অন্যদিকে মিন্নির জামিন মঞ্জুরের খবর জানার পর তার মা মিলি আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়ে নির্দোষ ছিল। আমার মেয়েকে জামিন দিয়ে হাইকোর্ট ন্যায়বিচার করেছে। কিন্তু এখনো সব আসামি ধরা পড়েনি, তাই আমরা প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্কের মধ্যে থাকি। দ্রুত সব আসামি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হৃদয়, সাগর, কামরুল হাসান সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবণ, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এছাড়া প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
তবে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মুসা বন্ড, ৭ নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামি রায়হান এবং ১০ নম্বর আসামি রিফাত হাওলাদারকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ড দেশব্যাপী আলোড়ন তোলার পর মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বেশ অগ্রগতি হয়। কিন্তু মামলার প্রধান সাক্ষী রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে তাকে ঘিরেই যেন তদন্তের কাজ ঘুরপাক খাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বরগুনার পুলিশ মিন্নিকে নিয়ে অতি উৎসাহী ভূমিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে সাক্ষী থেকে আসামি বানিয়ে গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার ঝড় ওঠে।
