আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া তারই স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বরগুনার প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ বলছেন, মিন্নির জামিনের মধ্যদিয়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আবার কেউবা বলছেন, হাইকোর্টের এই আদেশ সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তাদের দাবি, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করতেই মিন্নিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।
মিন্নির জামিন আদেশের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর
রহমান ঝন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিফাত হত্যা মামলায় পুলিশ খুনিদের আড়াল করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিন্নিকে ফাঁসাতে চায়। হাইকোর্টে মিন্নির জামিনের মধ্যদিয়ে রিফাত হত্যা মামলার ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম হয়েছে। নিম্ন আদালতে মিন্নি জামিন না পেলেও উচ্চ আদালত মিন্নির প্রতি সুবিচার করেছে। মিন্নির জামিনের মধ্যদিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে আইন সবার ঊর্ধ্বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাদকের একটি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা বরগুনাবাসী সবার কাছে স্পষ্ট ছিল। কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে পুলিশ বারবার মাদকের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জায়গা থেকে হয়েছিল। আমরা বরগুনার সাধারণ মানুষ রিফাত হত্যাকারীদের বিচার চাই। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে পিবিআইতে হস্তান্তরেরও দাবি জানাচ্ছি।’
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী চিত্তরঞ্জন শীল বলেন, ‘জামিন পাওয়ার অধিকার সব নাগরিকেরই আছে। মিন্নি দোষী কি নির্দোষ আদালতে সেটা বিচারের সময় যখন আসবে, তখন দু’পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তা সিদ্ধান্ত নেবে। পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে, তাদের সঠিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলায় যেহেতু মিন্নি সাক্ষী ছিলেন, তাই তাকে হঠাৎ আসামি করাটা অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেনি। যদি মিন্নি দোষী হয়েও থাকে, তা হলে তাকে সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে আদালতে হাজির করা যেত। কিন্তু সেক্ষেত্রে পুলিশের কার্যক্রম অনেকটা অতিউৎসাহী মনে হয়েছে, যা বরগুনার মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। একজন নারী এবং অসুস্থ হিসেবে আদালত মিন্নির ব্যাপারে যে আদেশ দিয়েছে তাতে জনমানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ হয়েছে।’
বরগুনার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘জাগো নারী’র প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি হাইকোর্টে মিন্নির জামিন মঞ্জুরের প্রতিক্রিয়ায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনে জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে। তা ছাড়া মিন্নি একজন কিশোরী এবং সে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না তা প্রমাণ হবে আদালতের বিচারে। তবে মিন্নি জামিন পাওয়ায় আইনের শাসনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি একজন নারী হিসেবে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভিডিওচিত্রে যা দেখেছি, তাতে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। তবে পুলিশের কাছে মিন্নির সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকলেও তা আমরা এখনো জানি না। সে বিষয়গুলো আমরা বিচারে গিয়ে হয়তো দেখতে পারব।’
