ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু হাসপাতালে ছেলে

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০২:২০ এএম

১০ বছরের ছেলে তামজীদ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আরেক ছেলে তানজীল (৩) মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের মা শারমিন আক্তার গত বুধবার রাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। শারমিন শরীয়তপুরের দৈনিক অধিকার পত্রিকার সাংবাদিক জাবেদ শেখের স্ত্রী।

জাবেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও বড় ছেলে তামজীদ একই সঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। দুজনকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করি। তামজীদ এখনো হাসপাতালে। ওর অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। আর ওর মা চিরতরেই চলে গেল। আমি জানি না আমার কী করা উচিত। সবার কাছে ছেলেটার জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ যেন ওকে সুস্থ করে দেন।’

স্বজনরা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত তামজীদ পালং তুলাসার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। গত ২২ আগস্ট মা-ছেলের জ্বরে আক্রান্ত হয়। ২৩ আগস্ট ডেঙ্গু ধরা পড়লে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তারা ভর্তি হয়। শারমিনের অবস্থার অবনতি হলে পরদিন দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ছেলের অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও শক সিনড্রোমে মায়ের অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গত বুধবার শারমিনকে গ্রিনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওই রাতে 

 

তার মৃত্যু হয়।

জাবেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রীর লাশ ফরিদপুর সদরের নরসিংহদিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। বিকেলে জানাজা শেষে দাফন হয়েছে। স্বজনরা ছোট ছেলের দেখাশোনা করছে। বড় ছেলেকেও তারাই দেখাশোনা করছে।’

সেন্ট্রাল হাসপাতালের পেশেন্ট কেয়ার অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ‘শারমিন শক সিনড্রোমে চলে গিয়েছিলেন। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থা এতটাই খারাপের দিকে ছিল যে, তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত