বৈধ পথে টাকা পাঠিয়ে লটারিতে ২ কোটি টাকা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০২:২২ এএম

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নয় বছর আগে আরব আমিরাতে যান সোনাগাজীর যুবক আল আরাফাত মহসিন। গিয়েই দুবাইয়ের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষকের চাকরি নেন তিনি। তবে দুই বছর পরই পেশা বদল করেন আরাফাত। একটি টেক্সাইল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে গিয়ে শুরু করেন পোশাক তৈরির কাজ। সে কাজ করে ভালোই চলছিল তার। প্রতি মাসেই কিছু টাকা বাড়ি পাঠান। এই মাসে টাকা পাঠানোর ঘটনাই আরাফাতের ভাগ্যের চাকা পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে টাকা পাঠান চলতি মাসে সেই প্রতিষ্ঠানের ১ মিলিয়ন দিরহামের লটারি জেতেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমান।

গত মঙ্গলবার দুবাইয়ের আল আনসারি এক্সচেঞ্জের গ্রীষ্মকালীন প্রচারমূলক একটি আয়োজনে এই অর্থ জেতেন তিনি। পুরস্কার পাওয়ার পর আরাফাত মুঠোফোনে বলেন, আমি সত্যি খুবই বিস্মিত। নগদ এই অর্থ আমার পরিবারের অনেক সাহায্য করবে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা (পরিবার) যে জীবনের স্বপ্ন দেখছি তা এর মাধ্যমে পূরণ হবে। আমি এ পুরস্কার না পেলে এটা কখনোই হয়তো সম্ভব হতো না।

তবে আমিরাতের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসকে তিনি বলেন, এই টাকা দিয়ে তিনি তার স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করবেন। যে বাড়ি হবে শহরের সেরা। বাকি টাকা তার মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন। 

খালিজ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আরাফাত ছাড়াও এবার আরও আট ব্যক্তি এই লটারি জিতেছেন। 

এদের মধ্যে দুজন আমিরাতের, দুজন ফিলিপাইনের, একজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি, একজন ইন্দোনেশিয়ান এবং অপর আরেকজন বাংলাদেশি। তারা প্রত্যেকেই ১০ হাজার দিরহাম (২ লাখ ৩০ হাজার টাকা) করে পেয়েছেন।

আরাফাতের বাবা সোনাগাজী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মহসিন হামিদি জানান, ‘তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে আরাফাত সবার বড়। নয় বছর ধরে আমিরাতে বাস করছে। এর মাঝে দেশে এসে বিয়ে করেছে। আগামী মাসেই প্রথমবারের মতো বাবা হবে আরাফাত।’ মোহাম্মদ মহসিন আরও জানান, খবরটি জানার পর তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

এর আগে ২০১৫ সালেও আবুধাবির একটি খামারে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিক মিজানুর আবদুল ওহাব (৩৭) জিতেছিলেন এই লটারি। সেবার তিনিও জিতেছিলেন ১ মিলিয়ন দিরহাম। 

আল আনসারি এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, প্রবাসীরা যেন বৈধ পথে নিজ দেশে টাকা পাঠান সেটি উৎসাহিত করতেই এমন লটারির আয়োজন করে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত