ঘুষ ছাড়া চলেই না সুব্রত কুমার দাসের! (ভিডিও)

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০৭:১২ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি যেন ঘুষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসের ঘুষ গ্রহণ এখন খোলামেলা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই তার ঘুষ গ্রহণের গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

দলিল লেখকরা বলছেন, ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো দলিলই পাস করেন না। নিজ হাতে ঘুষের টাকা বুঝে নিয়ে তারপরে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন। তিনি দলিল প্রতি দেড় থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। নিরুপায় হয়ে দলিল লেখকরা দাতা ও গ্রহীতাদের কাছে থেকে তা আদায় করতে বাধ্য হন।

এর প্রতিবাদে দলিল লেখকরা আন্দোলন করেও লাভ হয়নি। উল্টো পাঁচ দলিল লেখক সাসপেন্ড হয়েছেন। তার এই অদৃশ্য ক্ষমতা কোথায় দলিল লেখকরা বলতে পারে না। ফলে তারা সাব রেজিস্ট্রারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

দলিল লেখক মো. সোহেল রানা জানান, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুব্রত কুমার দাস শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি এ অফিসটিকে দুনীতির আখড়ায় পরিণত করেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন এ অফিসের সুমন ও আব্দুস সালাম নামের দুই কর্মচারী।

সোহেল রানা আরো জানান, হেবা ঘোষণাপত্রের দলিলের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ৬৪০ টাকা ও এনফি ২৪০ টাকা। সেখানে সরকারি ফি ব্যতীত প্রতিটি দলিলের জন্য শাহজাদপুরের সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস কখনো নিজ হাতে, আবার কখনো সুমন বা আব্দুস সালামের মাধ্যমে দেড় থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে সুমন ও আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে আপনারা কথা বলেন।

ভুক্তভোগী কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের মো. মানিক বলেন, আমি একটি হেবার ঘোষণাপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে এ অফিসে আসি। প্রথম দিন আমাকে নানা অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্রি না করে পরে আবার আসতে বলেন। কয়েক দিন ফেরত যাওয়ার পর আমি অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে রাজি হলে আমার দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন। এ বিষয়ে শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভেন্ডার  মোস্তাক আহম্মেদ জানান, দলিল প্রতি ৩০০ টাকা করে না দিলে তার স্ট্যাম্পের দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না। সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কথা বলায় তার সরবরাহকৃত স্ট্যাম্পের দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে দলিল লেখক ওসমান গণি জানান, কর্তারা যেভাবে চালান আমরা সেভাবেই চলি। এ বিষয়ে এর চেয়ে আর বেশি বলার দরকার পরে না। এটা সবাই বোঝে।

সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজের একটিতে দেখা যায়, সুব্রত কুমার দাস নিজেই একজন দলিল লেখকের কাছ থেকে ১৫ শ টাকা উৎকোচ নিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলিলের উৎকোচ বাবদ আনিছ নামের এক ব্যক্তিকে প্রথমে তিন হাজার টাকা দিলে আনিছ ওই দলিল লেখককে বলেন, স্যার ৩৫ শ টাকা দিতে বলেছেন। পরে দলিল লেখক টাকা না দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার ফোন দিতে বলেন। আনিছ সুব্রত কুমার দাসকে ফোন দিয়ে কথা বলেন। এরপর তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলেন ৩৫ শ টাকার কমে হবে না। বাধ্য হয়ে ওই দলিল লেখক তাকে ৩৫ শ টাকাই দেন।

এ বিষয়ে সুব্রত কুমার দাস জানান, আমি বা আমার অফিসে কোনো প্রকার ঘুষ নেওয়া হয় না। আপনারা যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। একটি অসাধু মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের বিষয়ে আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত