মাঠে তারা চিরশত্রু। ফুটবলের বর্ষসেরা পুরস্কারের বেলায়ও একে অপরের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। বলা হচ্ছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা। মাঠের বাইরে তাদের একসঙ্গে দেখা যায় না বললেই চলে। মাঠেও গত মৌসুম থেকে দেখা হওয়ার সম্ভাবনাটা কমে গেছে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্তাসে চলে যাওয়ায়। কিন্তু মোনাকোতে এবারের উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের মঞ্চে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। তারা যেন দীর্ঘদিনের বন্ধু! বার্সেলোনা তারকার সঙ্গে ভবিষ্যতে একসঙ্গে ডিনার করা নিয়েও আশা প্রকাশ করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
গত ১৫ বছর ধরে মেসি ও রোনালদো দ্বৈরথ চলছে। গেল বছর বাদ দিলে আগের দশ বছরের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে আধিপত্য ছিল এই দুই তারকারই। মোনাকোতে উয়েফার বর্ষসেরা পুরস্কার ঘোষণার আগে উপস্থাপিকার সঙ্গে ছোট এক সাক্ষাৎকার দেন রোনালদো ও মেসি। সে সময় নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমরা এ মঞ্চটা (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) ১৫ বছর ধরে ভাগ করে নিচ্ছিÑ সে আর আমি। ফুটবলে এটা কখনো ঘটেছে কিনা জানি না। একই মঞ্চে সব সময় সেই দুজনই, এটা মোটেও সহজ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমাদের এখনো একসঙ্গে ডিনারে বসা হয়নি। ভবিষ্যতে হয়তো হবে।’
রোনালদোর সঙ্গে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কথা বলেন মেসিও। জানালেন, রোনালদোর সঙ্গে তার সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে সুন্দর দ্বৈরথ ছিল। আসল লক্ষ্য ছিল গোল করার আগে জয়ের চেষ্টা করা। তবে নিজে গোল করার পাশাপাশি জিততে পারলে ভালো। আর লা লিগায় রোনালদোকে পাওয়া ছিল দারুণ ব্যাপার। বিশেষ করে সে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হওয়ায়।’
বয়সে মেসির চেয়ে দুই বছরের বড় রোনালদো। মেসির সঙ্গে একই সময়ে অবসর নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘সে আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। কিন্তু এ বয়সে আমিও ভালো (ফিটনেস) আছি। আশা করি আগামী বছরও আমি এখানে আসতে পারব। এরপরের দুই বছর কিংবা তৃতীয় বছরেও। এতে যারা আমাকে অপছন্দ করে তারা আমাকে দেখবে এখানে।’ স্পেনে (লা লিগায়) খেলাটা মিস করেন বলেও জানিয়েছেন রোনালদো।
