রোহিঙ্গা সমাবেশ উদ্বেগ বাড়িয়েছে সরকারের

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৯ এএম

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সফল হতে না পারায় এখন চিন্তিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আবাস গাড়া রোহিঙ্গারা গত ২৫ আগস্ট বিশাল সমাবেশ করে পূর্ণ নাগরিকত্বসহ পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে সে দেশে ফেরত না যাওয়ার ব্যাপারে যে অবস্থান দেখিয়েছে তা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভীষণ বাড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের। যা গত কয়েকদিন দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে। তারা বলছেন, রোহিঙ্গা নিয়ে চক্রান্ত চলছে। এর পেছনে বেসরকারি সংস্থার (এনজিওর) পাশাপাশি বিএনপিও রয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা এমন আশঙ্কাও রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ভেতরে। কেন্দ্রীয় ওই নেতারা জানান, রোহিঙ্গা সমাবেশ করার আগে কেন টের পায়নি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তা নিয়েও ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা এমন কিছু করার যাতে সুযোগ না পায় সেদিকে বিশেষ নজর রাখার কথা বলেছেন তিনি।

এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন বারবার হলে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারের একটাই লক্ষ্য দ্রুত তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা। তা না হলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো জনমত গঠন করতে চায়। এজন্য সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও কাজ করবে। তাহলেই শুধু সাফল্য পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, এ ইস্যুতে চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে সরকারের আগ্রহ রয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা যেখানেই সফরে যাবেন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাইতে নির্দেশ রয়েছে সরকারপ্রধানের। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলও বিদেশ সফরে গেলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরাতে বিদেশি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাবে।

আওয়ামী লীগ সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গড়ে উঠেছে সেখানে অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীনদের ভেতরে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত দ্রুত শুরু করা যায় সেটাই মঙ্গলজনক। কোনো ঘটনা ঘটে গেলে তা শুধু ছড়াবেই। আর তাতে বেশ ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হবে সরকারকে। যদিও এজন্য সেখানকার বাসিন্দাদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। স্থানীয় জনগণকে শান্ত রাখতে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ও সরকারি বিভিন্ন কৌশল অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতায় আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। তিনি বলেন, চীন, রাশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সরকারের জন্য চাপের মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলেও তাদের এই দেশ থেকে ফেরত যেতেই হবে। ফারুক খান বলেন, এ ইস্যুতে বিশ্ব জনমত আরও জোরালো করে তুলতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা সমাবেশের পর সে এলাকায় বাড়তি নজর দিয়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা সংগঠিত হয়ে শক্তির প্রকাশ ঘটাতে চায় সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সেখানে স্থানীয় জনগণের ভেতরে এক ধরনের জটিলতা-সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে চায়। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ওয়েট। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে তিনি দাবি করেন, সরকারবিরোধী বিভিন্ন মহলের ইন্ধন এখানে জটিলতা তৈরি করছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিদেশি জনমত ও চাপ সৃষ্টি করাই হলো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতায় আমরা আশার আলো দেখছি। বিদেশিরা আমাদের সমস্যা বুঝতে পেরেছেন। রাজ্জাক বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ যাতে কেউ না পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত