চলতি বছরের জুলাই থেকে সারা দেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে থাকে বিপুলসংখ্যক মানুষ। ৩০ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই দেড় থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে ২৩ আগস্ট থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৩ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত আট দিনে রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমতে থাকে। এ সপ্তাহে কোনো দিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় হাজারে পৌঁছায়নি। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এ মাসের সর্বনিম্ন ১ হাজার ২৯ রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টেই সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৯৭৪ জন, যা ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর চেয়েও বেশি। এই ১৮ বছরে সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছিল ৫০ হাজার ১৪৮ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে ১৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। ওই ১৮০ জনের মধ্যে ৫২ জনের ডেঙ্গুর কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে পর্যালোচনা শেষে নিশ্চিত করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গত বুধবার থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ হাজার ৪৩৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরে ৬৪ হাজার ৫৫৮ জন, যা মোট আক্রান্ত রোগীর ৯৩ শতাংশ। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল ৪ হাজার ৬৯৭ জন, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। এদের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ২ হাজার ৬১০ জন। আর ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে ভর্তি রয়েছে ২ হাজার ৮৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহরে নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৮৪, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৫৩, শিশু হাসপাতালে ২৪, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২৭, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ২৪, পুলিশ হাসপাতালে ১০, মুগদা মেডিকেলে ৪৪, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১১, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৪৩, বেসরকারি ক্লিনিকে ১৩৪ জনসহ ৪১টি হাসপাতালে ৪৬৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
ওই ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহর বাদে দেশের অন্য এলাকাগুলোতে মোট ভর্তি হয় ৫৬০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩১, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৬, খুলনায় ১৬০, রংপুরে ১১, রাজশাহীতে ৬০, বরিশালে ৮৭, সিলেটে ৫ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়।
আরও তিনজনের মৃত্যু : আমাদের ঢাকা মেডিকেল ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সারা দেশে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্নী বেগম (৫২) নামে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। ওই নারীর স্বামীর নাম আলী আশরাফ। তাদের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকায়। মুন্নী কিছুদিন জ¦রে ভোগার পর ২৮ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। ওই হাসপাতালেই তাকে ভর্তি করা হয়েছিল।
পাবনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ আলী মকো (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী গত বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মকো জেলার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার দীঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দোলেনা খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী। গতকাল ভোরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
