স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে কোনোভাবেই দুর্নীতি বরদাশত না করার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে শতভাগ নির্মূলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মশিউর রহমান খান। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল।
সেমিনারে দুর্নীতি রোধে সরকারের অবস্থান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হয়েছে। আমরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না, দুর্নীতিকে শতভাগ নির্মূল করতে পদক্ষেপ নিয়েছি। সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতি বিতাড়িত করার জন্য কাজ করছি।’
সেবা খাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা বিভাগের সমন্বয়হীনতার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ছে এবং সমন্বয় কোথায় কোথায় করা দরকার, এটাও আমরা জেনেছি। সমন্বয়ের তো প্রতিদিন নতুন করে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের মধ্যে সমন্বয় নেই। আমি তো সমন্বয়হীনতার কিছু দেখি না। উত্তরের মশার ওষুধ দক্ষিণ সিটি ভাগ করে নিচ্ছে। তারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করছে। তবে কোথায় কোথায় সমন্বয় নেই, কে কথা শুনছে না, সেটা সুনির্দিষ্ট করে দেখিয়ে দিলে খতিয়ে দেখা হবে। তা ছাড়া দুজন মানুষ তো দুই রকমের চিন্তার হবে। সবার কথা তো এক হতে পারে না। কিন্তু আমরা অ্যাডজাস্ট করব। সমন্বয় একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফল কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আউট ট্র্যাকে কথা বলা যাবে না। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। আমিও করেছি, মেয়ররাও করেছেন, কাউন্সিলরাও করেছেন এবং সেখানে সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। এ কথা বলা যাবে না, সফল। সফল তখনই বলতে পারতাম, একজন মানুষও যদি আক্রান্ত না হতো, একজন মানুষও যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হতো।’ তিনি বলেন, ‘আমি তো এ দাবি করব না সফল। আমিও মানুষ। মানুষের সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। এখন শত চেষ্টা করার পরেও সেটার সফলতা না আসে, কী করে দাবি করব শতভাগ সফল হয়ে গেছি।’
অনুষ্ঠানে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘সরকারব্যবস্থা একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা। নগর ভবনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সভাপতিত্বে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, পূর্তমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি সভা হয়। সেখানে ঢাকা শহরের জলজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় শহরের পানিনিষ্কাশনব্যবস্থায় সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করারও সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ঠেলাঠেলি বন্ধের সিদ্ধান্তও হয়েছিল। ওয়াসাকে দ্বিখণ্ডিত করে সেটি সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হবে। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন হয়নি।’ ওই সময় নাগরিক সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার ওপর একটি কি-নোট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান, বিআইপির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ প্রমুখ।
