রোহিঙ্গাদের স্বয়ং সরকার ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, যদি ইন্ধন না দেয়, তাহলে তারা লক্ষ লক্ষ লোক সমবেত হয়ে সমাবেশ করে কীভাবে? তারা মিছিল করে কীভাবে?’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে পুলিশ সভা-সমাবেশ করতে অনুমতি দেয় না, অথচ রোহিঙ্গাদের যখন সমাবেশ করতে দেন, আমি তো মনে করি এর পেছনে সরকারেরই ইন্ধন আছে।’
শনিবার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ’৭১ এর চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দাবিতে আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি করেন।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে বুঝতে হবে রোহিঙ্গারা যেতে চায় না কেন? তারা গেলে সেখানে আপনি (সরকার) কোনো রাজনৈতিক পুঁজি ব্যবহার করতে পারবেন না, এই ভয় থেকে তাদেরকে স্থায়ীভাবে এখানে রেখে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করতে চান। সেই ধরনের কথা আছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ভিন দেশের লোক, তাদেরকে আশ্রয় দিতে হবে আবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। সে জন্য বিশ্বের যত বড় বড় শক্তিধর দেশ রয়েছে, তাদেরকে সঙ্গে নিতে হবে এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে সকল রাষ্ট্রকে সক্রিয় করেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান আমাদের করতে হবে।’
রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে ‘জাতীয় সংকট’ আখ্যায়িত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে এটা তার সমস্যা তাহলে বোকামি করবে। এই সমস্যাটা জাতীয় সমস্যা, এটা সমাধানের ক্ষেত্রে একটা কালেকটিভ লিডারশিপ দরকার।’
খালেদা জিয়ার অপর নাম গণতন্ত্র উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন , ‘যে নেত্রী রাজপথে আন্দোলন করেছে সেই নেত্রীর কর্মীরা তাকে আন্দোলন করেই মুক্ত করবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়া আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনার প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, তারেক রহমানকে নেতা বানানোর জন্য আপনি ফ্রন্টে আসেন নাই, এটা আমরা জানি। আপনি আপনার রাজনৈতিক স্বার্থের বিবেচনায় এসেছিলেন, স্বার্থ বিবেচিত হয়নি। আপনি সেখান থেকে ব্যাক করবেন বা ফেরত যাবেন, এটা বুঝবার মতো সক্ষমতা আপামর জনগণের আছে।’
তারেককে নিয়ে প্রশ্ন তোলার জবাবে কাদের সিদ্দিকীকে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনাকে একটা কথা বলতে চাই, তারেক রহমানকে আপনি নেতা বানাবেন কেন? আপনার ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দেড় যুগ আগেই তারেক রহমান বাংলাদেশের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’
উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ’৭১ সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া বক্তব্য রাখেন।
