জাবিতে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, সাংবাদিক হেনস্তায় দুঃখপ্রকাশ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৪ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও মহাপরিকল্পনা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিকে মিথ্যা ও কল্পিত দাবি করেছেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। পাশাপাশি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিকে খারিজ করে বিকেলে নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা।

আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘একনেকে পাশ হওয়া ১৪৪৫ কোটি টাকা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এই টাকা রাষ্ট্রের সকল জনগণের।  উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য তা কেবল প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে দায় এড়াতে পারেন না। গণমাধ্যমের কাছে উপাচার্য স্বীকার করেছেন যে, তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করেছেন। দুই কোটি টাকা কন্ট্রাক্টররা ছাত্রলীগকে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। উপাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী কন্ট্রাক্টররা টাকা দিলেও সেটা দুর্নীতি। কারণ এই টাকা কন্ট্রাক্টররা প্রজেক্ট থেকেই উশুল করবেন। আর টাকা বণ্টনের জন্য উপাচার্য মিটিং করলে তিনিও দুর্নীতির অংশ হয়ে যান।’

তারা বলেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সে ক্ষেত্রে তিনি এটার কোন তদন্ত করতে পারেন না। তাই আমরা এই দুর্নীতির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। এ সময় মোট তিনটি দাবি আদায়ের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে গানের মিছিল’ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মনোনীত স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক মাস্টারপ্ল্যানসহ উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই এই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অপরিকল্পিত বলার কোন সুযোগ নেই। নির্মাণকাজে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য আন্দোলনকারীরা প্রবল বৈরী রাজনৈতিক মতাদর্শের জোট করে অপরিকল্পিত উন্নয়নের তকমা লাগিয়ে নির্মাণকাজে বাঁধা দিচ্ছে।’

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তারা বলেন, এই প্রকল্পের টাকা থেকে কোন দুর্নীতি হয়নি। মূলত, এই প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে আন্দোলন শুরু করেছে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। আর উপাচার্যের বিরুদ্ধ আনীত দুর্নীতির অভিযোগ উপাচার্যের রুচি-সংস্কৃতি-শিক্ষা-পারিবারিক পরিচিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

এদিকে, গত ২২ আগস্ট দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাকে অনভিপ্রেত বলে উপাচার্যের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দুঃখপ্রকাশ করেন শিক্ষকরা। সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সম্পাদক অধ্যাপক বাশির আহমেদ, অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, অধ্যাপক হানিফ আলী, অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা প্রমুখ।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক রায়হান রাইন, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মাদ, সভাপতি (মার্ক্সবাদী) মাহথির মুহাম্মাদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত