৩০ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত সাহো সিনেমাটি। সুজিত পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রভাস, শ্রদ্ধা কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, নীল নিতিন মুকেশ ও চাঙ্কি পাণ্ডে। এক দিনেই ‘সাহো’র আয় ১০০ কোটি রুপি।
রহস্যময় চরিত্র সাহো (প্রভাস)। একেক সময় তাকে একেক বেশে দেখা যায়। চোর, পুলিশ বা ত্রাণকর্তা। খারাপ মানুষ জ্যাকি শ্রফ, মহেশ মাঞ্জরেকর, টিনু আনন্দ, অরুণ বিজয় ও চাঙ্কি পাণ্ডের অপরাধের সাম্রাজ্য ধ্বংস তার লক্ষ্য। ছবির শুরুতে একগুচ্ছ চুরির দৃশ্য দেখা যায়। এরপর পুলিশের তদন্ত ধরে এগিয়ে যায় বিকশিত হয় চরিত্র। পরিণতিতে প্রতিশোধের গল্প। এর ভেতরেই অল্পবিস্তর রোমান্সও দেখা যায়।
দেখে মনে হয় পরিচালক সুজিত অসংখ্য দৃশ্য লিখেছেন। তারপর কোনো ধারাবাহিকতা না মেনে এলোমেলোভাবে ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। পরে একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। আর প্রভাসের আগের ছবি ‘বাহুবলি’র চাপ সামলাতে হয়েছে বেশ। শ্রদ্ধা ও প্রভাসের পিস্তল যুদ্ধের সঙ্গে অনেকে আনুশকা শেঠি ও প্রভাসের ধনুর লড়াইয়ের মিল পেতে পারে দর্শক। আবার নৌকার মাঝে গানেও একই সিনেমার কথা মনে আসতে পারে। অস্ত্র সজ্জিত একদল ভিলেনের সঙ্গে প্রভাসের খালি হাতে লড়াই তাকে সুপারহিরোর মতো হাজির করে। যা শুধু ‘বাহুবলি’র সঙ্গে মানানসই। এ ছাড়া প্যারাসুট ও জেটপ্যাক নিয়ে লাফ দেওয়ার দৃশ্য একদম অপ্রয়োজনীয়। সেখানে আবার নায়ক-নায়িকা কেউই শরীরের কোথাও আঘাত পায় না। বাস্তব বিবর্জিত থাকার জন্য যা যা করা যায়, তার সবটাই আছে চিত্রনাট্যে।
পুরো ছবিতে শ্রদ্ধার কাজ যেন বিপদে পড়া, যেখানে উদ্ধার করে নায়ক। এ ঘটনা অগুনতি ঘটেছে। তিনি মারপিট, পিস্তল চালানো সবই পারেনÑ শুধু কেউ তার হাত ধরে রাখতে হবে। এক সময় মনে হতে পারে নায়িকাকে উদ্ধার ছাড়া প্রভাসের কোনো কাজ নেই। সন্দেহ নেই শ্রদ্ধা-প্রভাস দারুণ জুটি। তবে তাদের রোমান্সের জন্য এই গল্প যুতসই নয়। যদিও শেষ পর্যন্ত স্টাইলিশ অ্যাকশন দৃশ্য সিনেমাটির একমাত্র আকর্ষণ হয়ে থেকেছে। আর সেখানে হতাশ করেননি সুজিত। পৃথিবীতে যত ধরনের অস্ত্র আছে, তার প্রায় সবই নায়ককে দিয়ে ব্যবহার করিয়েছেন তিনি। মারপিট আর শারীরিক সামর্থ্যরে ভালো ব্যবহার করেছেন প্রভাস। শুধু তার অভিনয় দক্ষতার কোনো নিদর্শন রাখেননি পরিচালক।
ছবিতে ভালো অভিনয় করেছেন নীল নিতিন মুকেশ, মুরালি শর্মা, প্রকাশ বেলাওয়ার্দি, মন্দিরা বেদি, জ্যাকি শ্রফ ও মহেশ মাঞ্জরেকর। কিন্তু এই সব মেধাবী অভিনেতাদের শুধু এককেন্দ্রিক চরিত্রেই দেখা গেছে। ছিল না নিজের মেলে ধরার কোনো সুযোগ।
৩৫০ কোটি রুপির ‘সাহো’ প্রায় তিন ঘণ্টার ছবি। প্রথম এক ঘণ্টা না দেখলেও চলে। কারণ সেখানে এমন কিছু ঘটে না যে, না দেখলে কাহিনী ধরতে সমস্যা হবে। যদি কেউ প্রভাসের খুবই ভক্ত থাকে ও যুক্তিবুদ্ধির ধার না ধরে অ্যাকশন পছন্দ করেন, তবে তার জন্য এই ছবি। নইলে এড়িয়ে গেলেও সমস্যা নেই।
ফিল্মফেয়ার থেকে অনুবাদ : ওয়াহিদ সুজন
