আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হবে তাদের ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে এনআরসি তালিকায় নাম না থাকা লোকদের ফেরত পাঠাতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও জানান ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই নেতা।
গতকাল রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আসামের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলব এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নিতে বলব। কিন্তু যত দিন ফিরিয়ে না নেওয়া হচ্ছে, তত দিন আমরা তাদের ভোটাধিকার দেব না, তবে বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারতের বন্ধু। তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। এনআরসি তালিকায় নাম নেই মানে এটা নয় যে, তাদের বিদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তাদের ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। কিন্তু তত দিন পর্যন্ত ভারতের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের অংশ নিতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পরে যারা শরণার্থী হিসেবে এসেছে, তারা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আমরা তাদের প্রতি সহমর্মী। কিন্তু তালিকার মধ্যে অনেকে আছেন, যারা নাগরিক নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন এবং আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। জাল দলিল প্রতিরোধে নাগরিকদের তালিকা হালনাগাদের এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে ততদিন, যতদিন আসামের একজন আদিবাসীও তাদের আবাস খুঁজে না পাবে।
এজন্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর অন্তত ২০ শতাংশ এবং বাকি আসামের ১০ শতাংশ নাগরিকদের পুনঃযাচাইয়ের অনুমতি দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে দাবি জানান আসামের অর্থমন্ত্রী।
গত শনিবার চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশ করে আসাম। ওই তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের। আর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের দিন শুক্রবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল রাজ্যবাসীকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, কেউ যেন আতঙ্কগ্রস্ত না হন। যাদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (এফটি) আবেদন জানাতে হবে। নাগরিকত্ব প্রমাণে সরকার তাদের সব রকমের সহায়তা দেবে।
