ফারুক হত্যার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা যুবক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৮ এএম

টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ (৩৫) নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, গতকাল রবিবার ভোররাতে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নূর জাদিমোরা-২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিল। তার বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াবের জেলার মংডু শহরের বুড়া সিকদারপাড়া গ্রামে। সে চিহ্নিত মাদক কারবারি ছিল। এদিন সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মিছবাহউদ্দিন (২৭) নামে এক যুবক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, মিছবাহ ডাকাতি মামলার আসামি ছিল। বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দুদিন আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত কালা মিয়ার ছেলে ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশের কাছে স্বীকার করে সম্প্রতি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যার সঙ্গে সে জড়িত এবং পার্শ¦বর্তী পাহাড়ে তার আস্তানায় অস্ত্র মজুদ রয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশ তার আস্তানায় অভিযান চালায়। উপস্থিতি টের পেয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গুলি ছুড়ে নূরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। এতে ওসি দোহা, কনস্টেবল আশেদুল ও অন্তর চৌধুরী আহত হন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। গুলিবিদ্ধ নূরকে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে চারটি এলজি, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, নূর যুবলীগ নেতা ওমর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিল। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার, সন্ত্রাসী, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থি সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা। তার বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ২২ আগস্ট রাতে হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে (৩০) তার বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় একদল সন্ত্রাসী। পরে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই রাতেই দুই আসামি মোহাম্মদ শাহ ও আবদুস শুক্কুর এবং পরদিন মোহাম্মদ হাসান নামে আরও একজন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। তারা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ে আশ্রয় নেয়।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল ভোররাতে বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ব্রিজের নিচে বন্দুকযুদ্ধে মিছবাহউদ্দিন নিহত হয়েছে। সে জকিগঞ্জের লোহারসাঙ্গম গ্রামের আলিমউদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ আটটি মামলা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিয়ানীবাজারের শিকারপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের বাড়িতে গত ১৭ জুন ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় করা মামলার আসামি মিছবাহকে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং থেকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে নিয়ে রবিবার ভোররাতে অভিযানে যায় পুলিশ। শেওলা ব্রিজের উত্তর পাশে পৌঁছলে ওঁৎ পেতে থাকা মিছবাহর সহযোগীরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। সবাই পালিয়ে গেলে পুলিশ ব্রিজের নিচে মিছবাহকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ছয় রাউন্ড গুলির খোসা, দুটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত