ডিসেম্বরে বড়পর্দায় আসছেন ফেরদৌস ও পূর্ণিমা। মুক্তি পাচ্ছে তাদের চলচ্চিত্র ‘গাঙচিল’। এমনটাই জানালেন সিনেমাটির নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ হলো। এগুলো এডিটিংয়ের জন্য আমরা পাঠিয়ে দেব। আর আগামী দুই মাসের মধ্যে সিনেমার সব কাজ শেষ হবে। আশা করছি ডিসেম্বরেই এটি পর্দায় আসবে।’
এ সিনেমায় নায়ক ফেরদৌস সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করছেন আর নায়িকা পূর্ণিমাকে দেখা যাবে একজন এনজিওকর্মীর চরিত্রে। ১৯ আগস্ট থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে এর তৃতীয় লটের কাজ শুরু হয়েছে। মাঝে কয়েক দিন বিরতি দিয়ে সেখানেই চতুর্থ ও পঞ্চম লটের কাজ হবে।
‘গাঙচিল’-এর গল্প সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া। মন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকার একটি গ্রামের নাম গাঙচিল। মূলত এ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিদিনের চিত্র নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। চিত্রনাট্য লিখেছেন মারুফ রেহমান ও প্রিয় চট্টোপাধ্যায়। সিনেমায় অতিথি হিসেবে একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এতে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, আনিসুর রহমান মিলন প্রমুখ।
ফেরদৌস বলেন, ‘গত সপ্তাহে নোয়াখালীতে সিনেমাটির দৃশ্যধারণে অংশ নিয়েছি। চেয়ারম্যানের ক্ষমতার লড়াইয়ে দৃশ্যগুলো বেশ সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। ওখানকার মানুষের জীবনের নানা বিষয় ‘গাঙচিল’ সিনেমায় উঠে আসবে। এতে আমার অভিনীত ‘সাগর’ চরিত্রটি একজন সাংবাদিকের। অসহায় মানুষকে পুঁজি করে ক্ষমতার লড়াইয়ের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদ করে। সব মিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো ছিল।’
পূর্ণিমা বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। অনেক যত্ন নিয়ে কাজটি করছি। অনেক সময় দিচ্ছি এর পেছনে। এরই মধ্যে বেশ কিছু সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি চাই না গাঙচিল মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অন্য সিনেমায় নিজেকে যুক্ত করতে। এতে এই সিনেমায় অভিনয়ের প্রতি মনোযোগ কমে যাবে। দর্শক সিনেমাটি কীভাবে গ্রহণ করছে তা দেখেই পরবর্তী সিনেমাগুলো নির্বাচন করব।’
আর ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে ফেরদৌস তার ক্যারিয়ার ভাবনা নিয়ে বলেন, ‘অনেক ধরনের সিনেমায় কাজ করেছি। এখন বুঝেশুনে অভিনয় করতে চাই। এমন কাজ করতে চাই যেটা আগামী প্রজন্মও যেন মনে রাখে। অনেক পেয়েছি। তাতেই আমি খুশি। ক্যারিয়ারে কিছু ভুল হয়তো ছিল। সেগুলো তখন ভুল মনে হয়নি। এখন মনে হচ্ছে। নামিদামি ও নবীন নির্মাতাদের সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। তাদের কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। এগুলোই চলার পথের পাথেয়।’
চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা কেমন জানতে চাইলে ফেরদৌস বলেন, ‘কিছুটা রুগ্ণ। যখন কেউ রুগ্ণ হয় আমরা তাকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করি। রুগ্ণতা মানে তো শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেক কঠিন রোগ থেকেও মানুষের মুক্তি হয়। আমার মনে হয় চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে। আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে সব শিল্পকলা একাডেমিতে একটি করে সিনেপ্লেক্স হবে। এর কার্যক্রম অনেকটা এগিয়েছে। এটা হলে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবে বলে আমি মনে করি।’
ফেরদৌস-পূর্ণিমা জুটি নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘জ্যাম’ নামের আরেকটি সিনেমার কাজও প্রায় শেষ করেছেন। এছাড়া ফেরদৌসের হাতে রয়েছে আরিফুর জামানের ‘কাঠগড়ায় শরৎচন্দ্র’, ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ আর ‘সেভ লাইফ’ সিনেমাগুলো। এছাড়া নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্রের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে।
ফেরদৌস-পূর্ণিমা জুটিকে এখন চ্যানেল আইয়ের পর্দায়ও দেখা যাচ্ছে। তারা ‘মাসুদ রানা’ চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী খোঁজার রিয়েলিটি শো ‘কে হবে মাসুদ রানা’র প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।
