মেয়েদের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বের ২০১৭ আসর, আর এবারের আসরে খেলতে যাওয়ার আগের বাংলাদেশ দলের মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। তা অভিজ্ঞতার। সেবার বাংলাদেশের মেয়েদের ঝুলিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা ছিল হাতেগোনা। আর এবার অভিজ্ঞতায় ভরপুর হয়ে বয়সভিত্তিক এই আসরে সেরা আটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে মারিয়া মান্ডা, আঁখি খাতুনরা। এবারের থাইল্যান্ডযাত্রাটা তাই অন্যরকম। মেয়েদের চোখে সেমিফাইনালের স্বপ্ন।
লক্ষ্যটা অনেক বড়, তবে মারিয়াদের বিশ্বাস সেটা ছোঁয়া অসম্ভব নয়। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক থাইল্যান্ড, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। আর ‘বি’ গ্রুপটা হয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ভিয়েতনামকে নিয়ে। ফাইনালিস্টরা সুযোগ পাবে আগামী বছর অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলার। ১৫ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলেই বাংলাদেশের কোচ ও ফুটবলাররা মনে করেন যে কোনো কিছুই সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে দলটির পরিচর্যা করে আসা গোলাম রব্বানী ছোটন প্রত্যয়ী কণ্ঠেই বললেন সে কথা। ‘গতবার অভিজ্ঞতার বড় একটা ফারাক ছিল। কারণ ঢাকায় বাছাইপর্ব শেষেই সরাসরি চূড়ান্তপর্ব খেলতে হয়েছিল। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল পরবর্তী সময়ে চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। অভিজ্ঞতার ঘাটতিটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে এবার কিন্তু অন্যরকম। ঢাকায় প্রথম বাছাইপর্ব খেলার পর দ্বিতীয় বাছাইপর্ব খেলি মিয়ানমারে। সেখানে সব গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ দলগুলো খেলেছিল। শক্তিশালী চীন, স্বাগতিক মিয়ানমার ও ফিলিপাইনের সঙ্গে আমরা কী করব তা নিয়ে সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত সবার সঙ্গে চূড়ান্তপর্বে চলে আসি টানা দ্বিতীয়বারের মতো। এশিয়ার সেরা আট দলে পরপর দু’বার নাম লেখানো কিন্তু সহজ কথা নয়।’
গত ফেব্রুয়ারিতে বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে খেলা দলটিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি ছোটন। সেবার পরীক্ষার জন্য খেলতে না পারা স্ট্রাইকার সাজেদা খাতুন ফিরেছেন দলে। জায়গা হারিয়েছেন ইলা মনি। এই দলটিতে ১১ জন রয়েছেন যারা ২০১৭ সালের চূড়ান্তপর্ব খেলেছিল। বাকি ১২ জনের রয়েছে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে ছোটন মনে করেন একটা অভিজ্ঞ এবং সব দিক দিয়ে প্রস্তুত দল নিয়েই তিনি যাচ্ছেন থাইল্যান্ডে, ‘গত দু’বছরে মেয়েরা অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছে। বয়সভিত্তিক লেভেলে সফলতা পেয়েছে। নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে আসার পর ৪ মাস সময় পেয়েছি। এই সময়টায় ফিজিক্যাল, টেকটিক্যাল, টেকনিক্যাল দিক নিয়ে অনেক কাজ করেছি। মেয়েরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’ আগামীকাল থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বাংলাদেশ।
