ব্যবসার পরিবেশে ১০ ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

দুই বছরের ব্যবধানে ভ্রমণ ও পর্যটনে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রগতি হয়েছে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। এতেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট (টিটিসিআই) ২০১৯’-এ বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১২০ নম্বরে। দুই বছর আগের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫ নম্বরে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে ভ্রমণ ও পর্যটন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।

বিশ্বের ১৪০টি দেশের ভ্রমণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৪টি সূচক পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনটি গতকাল বুধবার প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ইডব্লিউএফ)। তাতে দেখা যায়, পাঁচ ধাপ অগ্রগতির পরও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ তালিকায় চীন রয়েছে ১৩ নম্বরে, ভারত ৩৪ নম্বরে। পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের একধাপ নিচে থাকলেও নেপালের অবস্থান ১০২-এ এবং শ্রীলঙ্কা ৭৭ নম্বরে। টিটিসিআই র‌্যাংকিংয়ে আগের মতোই সবার ওপরে স্পেন। পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডা ও সুইজারল্যান্ড।

কয়েক বছর আগেও এ তালিকার তলায় জায়গা পেত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। পরে অগ্রগতি অর্জন করায় আস্তে আস্তে ওপরের দিকে উঠছে। ২০১৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোই এ তালিকায় এগিয়েছে বেশি। ভ্রমণ ও পর্যটনে আরও অগ্রগতি অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নির্মাণ অনুমতি, ব্যবসায়িক পরিবেশে বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় খুব একটা ভালো নয়। বিনিয়োগ বাধা দূর করার মধ্য দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শ্রমবাজার পরিস্থিতিতে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। এজন্য শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো ও শ্রমশক্তির গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষার নীতি বাস্তবায়ন প্রশ্নে দুর্বলতার কারণে প্রকৃতিনির্ভর বাংলাদেশের পর্যটন পিছিয়ে পড়ছে। বায়ুদূষণ ও বর্জ্যপানি শোধনের ব্যবস্থা না থাকায় সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পর্যটনের আকর্ষণ বাড়ছে না।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ব্যবসায়িক পরিবেশ সূচকে বাংলাদেশ ১০ ধাপ এগিয়ে ৯৪ নম্বরে উঠে এসেছে। ২০১৭ সালে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৪ নম্বরে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা) বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে এক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যে ১০টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ব্যবসার পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুবিধা, মানবসম্পদ ও শ্রমবাজার পরিস্থিতি, আইসিটির ব্যবহার, ভ্রমণ ও পর্যটনের অগ্রাধিকার, আন্তর্জাতিকভাবে অকপটতা, মূল্য পরিস্থিতি, টেকসই পরিবেশ, বিমান পরিবহন অবকাঠামো, সড়ক ও বন্দর অবকাঠামো, পর্যটন সেবার অবকাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বিজনেস ট্র্যাভেল। জঙ্গিবাদবিরোধী সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে গত দুই বছরে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর ১০টি সূচকের মধ্যে এ সূচকেই সর্বোচ্চ স্কোর পেয়েছে বাংলাদেশ। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় স্কোর ৫.৩ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর গড় স্কোর ৫.৪। সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ৪.৯।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১২৩ থেকে ১০৫ নম্বরে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে ১১৬ থেকে ১১১, ভ্রমণ ও পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়ার সূচকে ১২৭ থেকে ১২১, মূল্য পরিস্থিতিতে ৮৯ থেকে ৮৫ এবং সড়ক ও বন্দর অবকাঠামো সূচকে ৭৪ থেকে ৬০ নম্বরে উঠে এসেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে উপকূলীয় টেকসই পরিস্থিতির কারণে, তবে অবনতি হয়েছে আন্তর্জাতিক অকপটতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক অকপটতায় ১০৪ থেকে ১১৪ নম্বরে নেমে এসেছে। পর্যটন সেবা অবকাঠামোতে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে, ১৩৩ নম্বরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত