ইউএস ওপেনে তারকা পতন চলছেই। ইনজুরির কারণে তৃতীয় সেট থেকে নিজেকে সরিয়ে কোর্ট তথা টুর্নামেন্ট ছেড়েছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচ। মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেন রজার ফেদেরার। ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী যার কাছে হেরেছেন, সেই গ্রিগর দিমিত্রভ আগে কখনো সুইস কিংবদন্তিকে হারাতে পারেননি।
সংশয়াতীত ভাবেই পাঁচ বারের ইউএস ওপেন জয়ী ফেদেরার সেমিফাইনালে ফেবারিট ছিলেন। দিমিত্রভ আগের সাতবারের দেখায় সুইস তারকাকে হারাতেই পারেননি। মঙ্গলবার তিনি হারালেন ৩-৬, ৬-৪, ৩-৬, ৬-৪ এবং ৬-২ গেমে। এমনিতে কোর্টে দিমিত্রভের সার্ব, ব্যাকহ্যান্ড, ভলি এবং ফোরহ্যান্ড দেখলে মনে হয় বুঝি ফেদেরারই খেলছেন। যে কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘বেবি ফেড’ নামে ডাকা হয় তাকে। যদিও নামটা পছন্দ নয় দিমিত্রভের। ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ফেদেরারকে বিদায় করে সেমিতে পা রাখা নিশ্চিতের পর বলেছেন, ‘একটা কথা বারবার নিজেকে বলছিলাম যে ম্যাচে টিকে থাকো। শারীরিকভাবে আমি খুব ভালো অনুভব করছিলাম। তার বিপক্ষে এমন কিছু শট খেলেছি, স্বাভাবিকভাবে যা খেলা কঠিন।’ প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে দিমিত্রভ। ২০১৪ সালে উইম্বলডন এবং ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালেও খেলেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর ফেদেরার বলেছেন, ‘এটা গ্রিগরের দিন। আমি ঠিক ছন্দে ছিলাম না।’ মঙ্গলবার ফেদেরার খুব স্বস্তিতে ছিলেন না। ম্যাচের মাঝেই তিনি মেডিকেল টাইম-আউট নেন। টেনিস কোর্টে যা সাধারণত তার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নয়। তবে কী কারণে মেডিকেল টাইম-আউট নিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। ট্রিটমেন্ট নিয়ে ফেরার পর আর ছন্দে ছিলেন না ফেদেরার। শেষ পর্যন্ত র্যাংকিং ৭৮ নম্বরে থাকা দিমিত্রভের কাছে হার মানেন তিনি। ২০০৮ সালে জার্মানির রেইনার স্কাটলার (র্যাংক ৯৪) পর তিনিই সর্বনি¤œ র্যাংকড প্লেয়ার যিনি কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে উঠলেন।
এদিকে ইউএস ওপেনে নিজের শততম জয় তুলে নিয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস। মঙ্গলবার তিনি মাত্র ৪৪ মিনিটে পরাজিত করেন চীনের ওয়াং কুইংকে। চীনের ১৮তম বাছাই ওয়াংকে কোয়ার্টার ফাইনালে ৬-১, ৬-০ তে উড়িয়ে দেন সেরেনা। সেমিফাইনালে তিনি খেলবেন ইউক্রেনের এলিনা সিবিতোলিনার বিপক্ষে। রেকর্ড গড়ার পর সেরেনা বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এখান আমি প্রথম খেলা শুরু করেছিলাম সম্ভবত ১৬ বছর বয়সে। তখন ভাবিনি আমি এখানে ১০০টা ম্যাচ জিততে পারব। আমি যে এখানে এতদিন খেলতে পারব সেটাও ভাবিনি।’
