এবার বিচার চাইলেন আঞ্জুর হামলাকারীরাই

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪২ এএম

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন শের-ই বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর ওপর হামলার ঘটনায় এবার তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিদ্রোহী নেতারাই। যারা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতত্বে রয়েছেন। গত বুধবার বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর মাধ্যমে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এক লিখিত আবেদনে এই দাবি তুলে ধরেন তারা। আঞ্জুর ওপর হামলার পর থেকে এ ঘটনায় সংগঠনের এসব বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক।

তারেক রহমানের কাছে গত বুধবার পাঠানো ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন মহানগর উত্তর বিএনপির শামীম পারভেজসহ বিদ্রোহী ৩১ নেতা। আবেদনে তারা বলেন, আঞ্জুর ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে তাদের ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল ইসলাম ঘটনার জন্য একই ইউনিটের সহ-সভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানকে দায়ী করে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে দপ্তর সম্পাদক এ বি এম রাজ্জাক হামলাকারী হিসেবে ৭-৮ জনের কথা বলেন। এর মধ্যে জনৈক শুক্কর নামের একজনকে তিনি চিহ্নিতও করেন।

আবেদনে বিদ্রোহী নেতারা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অসংগতি রেখে ভিন্ন ভিন্ন সময় পৃথকভাবে যাওয়ার সময়ে অনভিপ্রেত এই ঘটনাটি (আঞ্জুর ওপর হামলা) ঘটেছে। একমাত্র আমরাই মিছিল সহকারে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একত্রিতভাবে অন্যান্য বছরের মতো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এখন বিভাজন বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সময় নয়। নিজেদের মধ্যে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসারও সময় নয়। সঠিক তদন্ত ব্যতিরেকে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ থাকবার। আমরা প্রত্যেকেই প্রায় দীর্ঘ আড়াই যুগেরও বেশি সময় ধরে ছাত্রদল থেকে এখন বিএনপিতে এসেছি। আমাদের জীবনের স্বর্ণালি সময়টুকু এই দলটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।’

উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টির ভাই শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু সংগঠনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন উল্লেখ করে ওই আবেদনে আরও বলা হয়, ‘মিষ্টির স্বামী সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান নিউটনও নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে আসা এবং সংস্কারপন্থি একজন নেতার মুখে ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিসহ আমরা যারা ছাত্রদলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার পার করে এসে এখন বিএনপি করছি, তাদের আওয়ামী লীগের দালাল বলা কতটুকু শোভনীয় তার বিচারের ভার পূর্ণ আস্থা সহকারে আপনার ওপরে ছেড়ে দিলাম।’

লিখিত আবেদনের সঙ্গে সংগঠনের নেতা কাইয়ুম-হাসানের কথিত অনিয়ম, কমিটি বাণিজ্য, সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিস্তারিত বর্ণনাও সংযুক্ত করা হয়েছে। অবেদনে মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম পারভেজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমানসহ আরও ২৮ নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে আঞ্জুর ওপর হামলার ঘটনার ৩ দিন পর গত বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার নিন্দা ও বিচার দাবি করা হয়। এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আলাদা একটি লিখিত আবেদন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত