রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আতঙ্ক

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৫৩ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক ধরনের ভয়ভীতি কাছ করছে সেখানকার এনজিও সংস্থার লোকজনের মধ্যেও। গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্প অভ্যন্তরে আগের মতো নেই কোলাহল। কিছু কিছু দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পে বসবাসকারীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। কিছু রোহিঙ্গার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি। তারা মিয়ানমারেও এ রকম কার্যক্রম করেছিল; এখানেও করছে। তারা মিয়ানমারে ফিরে না যেতে এসব করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার লোকজন বলেছেন, ‘এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সাতটি এনজিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কবে না আবার আমাদেরটা বন্ধ হয়। সেই চিন্তায় আছি।’ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পানের দোকানি রোহিঙ্গা আবুল হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে বেচা-বিক্রি কম। রোহিঙ্গাদের মাঝে ভয় কাজ করছে। উখিয়ার ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্যান্য সময়ের চেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি তৎপরতা বেড়ে গেছে।’ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুসা আলী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা সন্ধ্যার পর ক্যাম্প থেকে বের হয় না। কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক র্কমর্কতা জানান, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি আর্মড ব্যাটালিয়ন গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব আসার পরপরই প্রাথমিক পর্যায়ে ৫৮০ জনের একটি আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তা বাতিল করে ৮৮০ জনের একটি টিম গঠন করে পাঠানোর উদ্যোগ চলছে। র‌্যাবের যৌথ ক্যাম্প স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে স্থান চিহ্নিত করে জমি বরাদ্দের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুক্তি কক্সবাজার, পালস, প্ল্যান ও হেলভেটাসহ আরও বেশ কয়েকটি এনজিও সংস্থার কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। প্রত্যাবাসনবিরোধী উসকানি এবং সমাবেশ আয়োজনে সহায়তার অভিযোগে আন্তর্জাতিক দুটি সংস্থাকে (মার্কাজুল ও আদ্রা) এনজিও ব্যুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারা দেশে সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। আরও দুটি এনজিও (ওয়ার্ল্ড ভিশন ও ইপসা) প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।

এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উখিয়া অফিসের কর্মকর্তা আবদুল বারী কোনো মন্তব্য করেননি। প্ল্যানের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন বলেন, প্ল্যানসহ বেশকটি এনজিওর কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, যেসব সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত