জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী ফিরোজ রশীদ বলেছেন, যারা রওশন এরশাদকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তারা গঠনতন্ত্রবিরোধী অপরাধ করেছেন। তারাই সাধারণ জনগণ এবং দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভা চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি। জাপার চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দলটিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের ও রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিভক্ত দলটির দুপক্ষের মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
ব্রিফিংয়ে ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান পদে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। পরবর্তীকালে ১৭ আগস্ট প্রেসিডিয়ামের সভায় উপস্থিত সব সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপিকে বিরোধীদলীয় নেতা হতে সমর্থন দিয়েছেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদ চিঠি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্ধারণ করেছেন। এটা পার্টি চেয়ারম্যানের এখতিয়ার। পল্লীবন্ধুও কখনো পার্লামেন্টারি কমিটির সভা করেননি। তাছাড়া গঠনতন্ত্রেও পার্লামেন্টারি কমিটির সভার কোনো কথা নেই। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং তিনিই হবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।’
এ সময় জাপার প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশনায় জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। পল্লীবন্ধু তার ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। যিনি অন্য কাউকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন তিনি অবৈধ কাজ করেছেন, যাকে ঘোষণা করেছেন তিনি এর প্রতিবাদ না করে সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন। যারা অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক ঘোষণা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় পার্টি একটি, যার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।’
এদিন বিকেল ৫টা থেকে জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে দলের প্রেসিডিয়াম ও সংসদ সদস্যদের যৌথসভা শুরু হয়। এর আগে পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায়ও তিনি সভাপতিত্ব করেন। এ সময় রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
