রূপপুর বালিশকে ফরিদপুরের ৩৭ লাখ টাকা দামের একটি পর্দা হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সরকার দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। একের পর এক দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত গণমাধ্যমে আসছে। দুর্নীতিতে আজ পর্দার কাছে হেরে গেছে বালিশ। এই হচ্ছে দেশের বর্তমান অবস্থা।’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের কারণে বাংলাদেশকে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সাইফুর রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এসে তলাবিহীন ঝুড়ির বদনাম ঘুচিয়ে দেশের অর্থনীতি মজবুত করেছিলেন। সামস্টিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘বিএনপির সময় দলের অনেক নেতা বেসরকারি ব্যাংকের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু অনুমতি দেননি সাইফুর রহমান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক ব্যাংকের অনুমতি দিয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো অবস্থা ব্যাংকের। লুটপাটের কারণে এখন ব্যাংকগুলোর বেহাল অবস্থা। যারা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করে না তাদের আবার ঋণ দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হলমার্ক কোম্পানিকে আবারও ঋণ দেওয়া হবে। তাদের আবার লুটপাটের সুযোগ করে দেবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করে মেগা দুর্নীতি করছে। অথচ সরকার উন্নতির কথা বলে। আসলে প্রমাণিত হয়েছে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ফাঁপা অর্থনীতি। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময় বলা হতো, বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার। তখন ইচ্ছে করলেই পুকুরচুরি, মেগাচুরি করা যেত না। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আজকে সাইফুর রহমান থাকলে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতো না।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘প্রয়াত সাইফুর রহমান ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে অর্থনীতির সুষম বণ্টন করতেন। এতে করে ধনী-গরিবের আয়ের বৈষম্য ছিল শতকরা ৩০ ভাগ। অথচ বর্তমান সরকারের আমলে ধনী-গরিবের আয়ের বৈষম্য দাঁড়িয়েছে ১৩০ ভাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার অর্থমন্ত্রী বানিয়েছেন একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীকে। অর্থমন্ত্রী ধনিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছেন। এজন্য গরিবের দিকে তাদের খেয়াল নেই। বিএনপি আমলে শেয়ার মার্কেটে ধস হয়নি সাইফুর রহমানের কারণে। কারণ তিনি লোভী ছিলেন না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই শেয়ার মার্কেটে ধস নামে।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুর রহমান, সাইফুর রহমানের বড় ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাসের রহমান, স্মৃতি পরিষদের সদস্য সচিব ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ কাইয়ুম প্রমুখ।
