রাফায়েল নাদালের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ক্যারিয়ার শুরু সেই ২০০৩ সালে। অন্যদিকে দানিল মেদভেদেভের গ্র্যান্ড স্ল্যাম পথচলা শুরু এই সেদিন, ২০১৭ সালে। এই বিশাল পার্থক্যই বলে দেয় চলতি ইউএস ওপেনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞতায় দুই মেরুতে আছেন। তবে আর সব খেলার মতো টেনিসেও অঘটন ঘটে, অভিজ্ঞতার ভান্ডারের সামনে তারুণ্যের জয় হয়। সেই স্বপ্ন ও সাহস নিয়েই মেদভেদেভ ২০০০-এর পর প্রথম রাশিয়ান হিসেবে ইউএস ওপেন জয়ের লক্ষ্যে আছেন। ওদিকে নাদাল, ক্যারিয়ারের ১৯তম শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে পুরুষ এককে সর্বোচ্চ ২০টি শিরোপাজয়ী রজার ফেদেরারের আরও কাছে আসার লক্ষ্যে আছেন।
তারুণ্য যতই অঘটনের চোখ রাঙানি দিয়ে রাখুক না কেন টেনিসে তার প্রতিফলন খুব কমই হয়। তিন সেটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখা ক্লান্তির কারণ হয়ে যায় অনেকের জন্য। ক্যারিয়ারে চতুর্থ ইউএস ওপেনের সামনে দাঁড়ানো নাদালের জন্য ক্লান্তি কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। ফাইনালের পথে মসৃণ পথচলা চালিয়ে সেমিফাইনালে হারিয়েছেন ম্যাতেও বেরাত্তিনিকে। ৪২ বছর পর প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে ওঠা বেরাত্তিনি নাদালের সঙ্গে প্রথম সেটে লড়েছেন বেশ। ৭-৬-এ গড়ানো প্রথম সেটটি পরে টাইব্রেকে হেরে যান ৭-৫-এ। কিন্তু পরের দুই সেটে ৬-৪, ৬-১-এ হেরে নাদালের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি। এখানেই প্রমাণ হয় ক্লান্তি ১৮ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী স্প্যানিশ তারকার কাছে কোনো ভাবনার বিষয় নয়।
এই চিন্তা বরং মেদভেদেভের। নিজেই নাদালকে মেশিন বলে আন্ডারডগের তকমা গায়ে মেখেছেন। গ্রিগর দিমিত্রভকে সেমিফাইনালে ৭-৬ (৭-৫), ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারিয়ে প্রথমবার গ্র্যান্ড সø্যাম ফাইনালে ওঠা এই রাশিয়ান জানান, ‘টেনিসের ইতিহাসে তিনি একজন গ্রেটেস্ট চ্যাম্পিয়ন। কোর্টে তিনি মেশিন। এমন একজনের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলা স্মরণীয়।’ নিজের স্মরণীয় ম্যাচে যদি স্মরণীয় কিছু করে বসেন তবে ২০০৫-এর পর প্রথম রাশিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতবেন মেদভেদেভ। ২০০৫-এর সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা রাশিয়ান ছিলেন মারাত সাফিন। ২০০০ সালে সর্বশেষ এই রাশিয়ানের হাতেই উঠেছিল ইউএস ওপেন।
