টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার গাড়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মেঘলা। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে হিসেবে পরিবারে যেমন আদরের তেমনি পড়াশোনায় অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে থাকায় স্কুলেও অনেকের প্রিয় সে। সপ্তম শ্রেণি থেকে প্রথম স্থান নিয়ে নতুন ক্লাসে উঠেছে। লেখাপড়া শেষ করে নিজেকে দেশসেবায় নিয়োজিত করতে চায় এই কিশোরী। কিন্তু স্থানীয় বখাটেদের উৎপাতে তার শিক্ষাজীবনই হুমকির মুখে পড়েছে। এসিড হামলার ভয়ে প্রায় এক মাস ধরে স্কুলেই যেতে পারছে না মেঘলা।
এ ব্যাপরে হুমকিদাতা পাশের গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে মানিক (১৫) ও নুর মুহাম্মদের ছেলে সাখাওয়াত হোসেনের (২০) বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। মেঘলার বাবা বন্দটাকুরিয়া গ্রামের মো. মফিজুর রহমানের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মানিকের চাচাতো ভাই হওয়ায় এবং মানিকের বাবা ধনবাড়ী থানার ওসির বাসার কেয়ারটেকার হওয়ার কারণে নেওয়া হচ্ছে না
কোনো পদক্ষেপ।
জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে ওই দুই যুবক বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে মেঘলাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে প্রথমে মানিক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তাতে সাড়া না দিলে মানিকের বন্ধু সাখাওয়াতও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। গত জুলাই মাসে ধনবাড়ী নবাব ইনস্টিটিউটে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে মেঘলাকে এসিডের বোতল ও চাকু দেখিয়ে ছবি তোলে সাখাওয়াত ও মানিক। মেঘলার বাবা-মা এর প্রতিবাদ করায় গত ১৫ আগস্ট তাদের ওপর হামলা চালায় মানিক ও তার বন্ধুরা। এ ঘটনা স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. তোতা মিয়াকে জানালে তিনি সালিশ মীমাংসা করে দিতে চান। কিন্তু মানিকের পরিবার এ বিষয়ে টালবাহানা শুরু করে।
মেঘলা জানায়, এখনো ওই দুই বখাটে এসিড নিক্ষেপের ভয় দেখাচ্ছে। তার বাবা-মায়ের ওপর হামলার ঘটনার কোনো বিচার না হওয়ায় সেদিন থেকেই ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছে সে।
এ বিষয়ে মানিকের বাবা ফজল মিয়া বলেন, আমার ছেলে মেয়েটার ছবি তুলে ভুল করেছে। সেজন্য তো মেয়ের বাবা মফিজ আমার ছেলেকে মেরেছে, কিন্তু আমি কিছু বলিনি।
তবে পৌর কাউন্সিলর মো. তোতা মিয়া বলেন, ঘটনাটি জানার পর উভয়পক্ষকে ডেকেছি। তবে ছেলেগুলোর পরিবারের পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। দ্বিতীয় ‘নুসরাত’ দেখতে চাই না।
গাড়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি আমাকে মুখে বলেছে। ছেলেটি যেহেতু বহিরাগত তাই লিখিত অভিযোগ পেলে ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ধনবাড়ী থানার এসআই নূরে আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। মেয়ে পক্ষ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার পক্ষে। তবে এখনো যদি তারা মামলা করে তবে উত্ত্যক্তকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
