গাজীপুর মহানগরীর ছয়দানা এলাকায় শিক্ষকের হাতে ধর্ষণের শিকার ছয় বছর বয়সী সেই নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী এখন হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। গতকাল শনিবার হাসপাতালটিতে গিয়ে এ চিত্র দেখা
যায়। এদিকে নার্সারির এই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার ২ নম্বর আসামি শরীফপুর আদর্শ শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা ফরিদা বেগমকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
হাসপাতালে শিশুটির মা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আমার মেয়ের ইন্টারন্যাল ইনজুরিতে ইনফেকশন হয়েছে। কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে হবে।’
মামলার ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশুটির খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামি স্কুলশিক্ষিকা ফরিদা বেগমের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
মহানগরীর শরীফপুর এলাকার আদর্শ শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী শিশুটি গত ৩১ আগস্ট তার নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার দিন সকাল পৌনে নয়টার দিকে স্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তাকে শিক্ষক মিলনায়তনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণকারী ওই শিক্ষকের ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে শিশুটি ধর্ষণের কথা তার পরিবারের কাউকে বলেনি। পরে রক্তক্ষরণ হলে শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও সুস্থ না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার শিশুটি তার মার কাছে শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের কাছে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানায়। ওই দিনই গাছা থানায় মামলা করেন শিশুটির মা। পরে পুলিশ শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গত শুক্রবার আসামি আনোয়ার হোসেনকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
