সাকিব আল হাসান প্রেস কনফারেন্সে আসেন কম। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট শুরুর আগের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত তিনদিন এলেন। আফগানদের বিপক্ষে হার এখন সময়ের ব্যাপার। ৩৯৮ রানের টার্গেট। এখনো দরকার ২৬২। হাতে মোটে চার উইকেট। তিনি আর সৌম্য সরকার উইকেটে। সাকিব মানছেন, জয় অসম্ভব। বাঁচাতে পারে বৃষ্টি। তবে ঘুরেফিরে এলো বাঁহাতি-ডানহাতি রাখতে পুরো ব্যাটিং কম্বিনেশন বদলে ফেলার বিষয়। এবং সবমিলে সাকিব মনে রাখার মতো একটা সংবাদ সম্মেলন দিয়ে গেলেন। দেশ রূপান্তর-এর পাঠকের জন্য জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে তারই সংক্ষিপ্ত রূপ।
বেশি চাপে নাকি?
হ্যাঁ, অবশ্যই। যে ধরনের ম্যাচ আমরা আশা করছিলাম তার পুরো বিপরীত। স্বাভবিকভাবে চাপ তো থাকবেই।
সংবাদ সম্মেলনে আবার আসা কি অন্যদের চাপে পড়তে
না দিতে?
(হাসি) টিমমেটদের ওপর থেকে চাপ কমানোর একটা রাস্তা বলতে পারেন। তবে মাঠের চাপ তো থাকবেই। যতদিন ক্রিকেট খেলব ততদিনই থাকবে। এটা মেনে নিতে হবে।
বিসিবি সভাপতিও বলছেন এই টেস্ট আপনারা পরিকল্পনার ভুলে হারছেন।
যখন রেজাল্ট পক্ষে যাবে না...পরিকল্পনা যদি ঠিকমতো বাস্তবায়িত হতো তাহলে এরকম হতো না। যেহেতু পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঠিকমতো হয়নি তাই এরকম হয়েছে। তখন এটাই বলা স্বাভাবিক যে পরিকল্পনায় ভুল ছিল।
মোসাদ্দেক হোসেনের ৩-এ নামা প্রসঙ্গে
প্রথম ইনিংসে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ ওকে মনে হয়েছে। আমরা যেহেতু বেশি স্পিন সামলাচ্ছিলাম কাল (শনিবার) রাত থেকেই পরিকল্পনা করা হচ্ছিল যে ও ওপরের দিকে ব্যাট করলে ভালো হয়। একই সঙ্গে নবি যেহেতু বাঁহাতিদের বিপক্ষে অনেক বেশি কার্যকর সে কারণে আমাদের লেফট-রাইট কম্বিনেশন করার প্ল্যান ছিল। সে কারণে ওকে প্রমোট করা। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাট করছিল ততক্ষণ খুব ভালো করেছে। এরপর প্রয়োগ করতে পারেনি। এটা ওর ব্যর্থতা। মেনে নিতে হবে।
ব্যাটসম্যানদের সমস্যা কোথায়?
টেকনিক্যালি সমস্যাও বলতে পারেন। যেহেতু রিস্ট স্পিনার খেলি না। আমি বলব না কারও অ্যাপ্রোচে সমস্যা ছিল। আমি বলব প্রয়োগে অনেক সমস্যা। যখন ভয়ে ভয়ে মারতে যাবেন তখন প্রয়োগে সমস্যা। কোচও এই কথাই বলেছেন যে আমরা যেন মন খুলে খেলি। আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক ভয় নিয়ে খেলি, অনেক চাপ নিয়ে খেলি। আসলে দিন শেষে এটা ক্রিকেট ম্যাচ, অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ তা আমাদের জন্য। কিন্তু দুনিয়ার সব কিছুই এটা না।
হঠাৎ এমন ব্যাটিং অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মানসিকভাবে অগোছালো করে কি না
না। চারশো তাড়া করতে গেলে আপনাকে অন্য কিছু করতে হবে। আমরা তো কখনো চারশো তাড়া করিনি। যদি দুইশো তাড়া করতাম ব্যাটিং অর্ডার ওরকমই থাকত। যেহেতু চারশো চেজ, তাই আমাদের কিছু প্রস্তুতির দরকার ছিল। প্রথম ইনিংসে তো দুইশোই করেছি। এখান এর থেকে আর কতই-বা খারাপ হতে পারে? ভালো করার ইচ্ছাতেই পরিকল্পনাগুলো করা হয়। যখন পরিকল্পনা কাজে আসে তখন বলা হয়, ‘ওয়াও কী প্ল্যান ছিল!’ যখন কাজে আসে না তখন মনে হয় ভুল ছিল।
শেষদিনে কতদূর যাওয়া সম্ভব?
রান কত দরকার? ২৭০ (আসলে ২৬২) ...দুইজনের একশো একশো করতে হবে। একশো একশো না। একজনের ১২০ আরেকজনের ১৫০ করা লাগবে। (হাসি)।
সম্ভব কি?
দুনিয়াতে কিছুই অসম্ভব নয়। দেখা যাক না কী হয়। আরেকটা আছে বৃষ্টি। ওটাও আমাদের বাঁচাতে পারে। আল্লাহ আছেন ওপরে। বেশ কয়েকটা পথ আছে। এখন বাকিটা দেখা যাক।
এমন ভিন্ন কম্বিনেশনের ভাবনা থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবে কবে?
ব্যাপারটা ছিল ওদের একটা পেস বোলার আর নবি এক পাশ থেকে বল করবে। এখানে সফল হইনি কারণ যাদের বড় ইনিংস খেলার কথা ছিল তারা খেলতে পারেনি। যদি চারশো তাড়া করেন আপনাকে ব্যাট করতে হবে ১৩০ ওভার চোখ বন্ধ করে। ১৩০ ওভার ব্যাট করা চাট্টিখানি কথা না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল দ্বিতীয় নতুন বল ওরা ফেস করবে তখন খেলা আমাদের হাতে থাকার মতো অবস্থায় থাকুক। সবাই মিলে আলোচনার পরে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে যে এভাবে যাই তাহলে আমাদের কাছে একটা সুযোগ আছে। ওই বিশ্বাসটা সবার ছিল।
৩৯৮ রান তাড়া করে জেতা সম্ভব মনে হয়েছিল নামার আগে?
৩০ রান পর্যন্ত মনে হয়েছিল সম্ভব। কারণ উইকেটটা এখনো খারাপ হয়নি। রিস্ট স্পিনাররা ওদের বাড়তি সুবিধা পাবেই যেটা যেকোনো ফ্লাট উইকেটেই পায় চার নম্বর বা পাঁচ নম্বর দিনে। কিন্তু উইকেটটা আনপ্লেয়েবল না। আমার মনে হয় আমরা ভালো অ্যাপ্লিকেশন কিংবা খোলা মন নিয়ে যদি খেলতে পারতাম আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো। এখানে আমাদের কোয়ালিটি শো করার জায়গা ছিল। যেটা আমরা খুব ভালোভাবে ফেল করেছি।
আফগানদের মতো নবীনদের সঙ্গে এমন হার বড় ধাক্কা নয়?
ভালো একটাই ব্যাপার যে, ম্যাচটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যে পড়বে না। আমাদের ক্রিকেটের জন্য, আমাদের জন্য হতাশাজনক অবশ্যই যে নতুন একটা দলের কাছে আমরা হেরে গেলাম। অবশ্যই তাদের (আফগানিস্তান) সম্মান দিতে হবে। হয়তো আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারতাম। তখন ওদের একটা চ্যালেঞ্জের মুখে আনতে পারতাম। টেস্ট ক্রিকেটের যে পরীক্ষা সেটা আমরা নিতে পারিনি। এটা অবশ্যই হতাশার।
অন্তত হোমে এশিয়ার দেশের বিপক্ষে খেলতে পেসার তৈরি করার কথা ভাবা উচিত কি না?
ম্যাচের আগের দিনও বলেছি, পেসারদের জায়গাটা প্রাপ্য হতে হবে, নাকি? আমাদের পেসারদের ইকোনমি ৪.৪১। ওরা পুরো ৯০ ওভার বল করলে একদিনেই রান দেবে ৪০০ । আমরা তাহলে প্রথম দিনই টেস্টের বাইরে। ইকোনমি রেট ২.৮ কিংবা ২.৯ এর মতো থাকলে তখনই না আমরা ওদের নিতে পারব। কোনো বোলার যদি কাজেই না আসে তাকে নিয়ে লাভটা কী? আমাদের নতুন পেস বোলিং কোচ প্রতিদিন পেসারদের নিয়ে কাজ করছেন। যেমন কঠোর পরিশ্রম করছেন তাতে মনে হচ্ছে অচিরেই আমরা ভালো পেসার পেতে পারি। একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনার সব ধরনের বোলার থাকতে হবে। আপনার রিস্ট স্পিনার থাকতে হবে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো ১৪০-১৫০ গতিতে বল করার একজন পেসার থাকতে হবে। একজন বোলার থাকতে হবে যে সারা দিন বল এক জায়গায় করবে যেন রান না হয়।
বাংলাদেশকে উইকেট আসলে কতটা হারাল?
উইকেট কেমন সেটা বুঝতে পারলে তো পরিকল্পনা অন্যরকম হতে পারত। এটা অবশ্যই হতাশার। এটা জানা জরুরি ছিল যে আমরা যে রকম চেয়েছিলাম সেটা যে পাচ্ছি না। মাঠে নামার পর জানলে তো কিছু করার থাকে না। যে পরিকল্পনা করে নামি, সেই ফিডব্যাকটা যদি পাই তাহলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অবশ্যই ওই ফিডব্যাকটা দেওয়া উচিত।
