যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি গ্যাস স্টেশনে ডাকাতির সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মো. ফিরোজ-উল আমিন রিয়েলকে (২৯) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাডভোকেট’

জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইস্ট ব্যাটন রুজে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মালিকানাধীন ‘মি. লাকি’স ভ্যালারো’ গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি গবেষণারত ফিরোজ সেখানে খণ্ডকালীন কাজ করতেন।

ইস্ট ব্যাটন রুজ শেরিফ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক বন্দুকধারী এয়ালাইনস হাইওয়ের ওই গ্যাস স্টেশনে ঢুকে ক্লার্কের দায়িত্বে থাকা ফিরোজকে গুলি করে এবং ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ফিরোজের লিঙ্কডইন প্রোফাইলের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রিভেইলির খবরে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ফিরোজের কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।

ফিরোজের পরিচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ‘দ্য অ্যাডভোকেট’কে জানিয়েছেন, শিগগিরই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। আগামী ডিসেম্বর মাসে ছেলের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেছিলেন ফিরোজের মা। বিয়ের জন্য টাকা জমাতে কয়েক মাস ধরে ওই গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে বিয়ের আংটিও কিনেছিলেন ফিরোজ। তার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে হানিমুনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানিয়েছেন ফিরোজের বন্ধুরা।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ পরিচালক অ্যার্নি বালার্ড জানিয়েছেন, ফিরোজ অধ্যাপক গোল্ডেন জি রিচার্ডের (তৃতীয়) অধীনে সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছিলেন।

অধ্যাপক রিচার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিরোজ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মৃত্যুতে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই বিরাট শূন্যতা তৈরি হবে।’

সম্প্রতি রিচার্ডের সঙ্গে ফিরোজ দুটি গবেষণাপত্রের কাজ শেষ করেছিলেন, যা একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গাজীপুরে রিয়েলের বাড়িতে মাতম : যুক্তরাষ্ট্রে মো. ফিরোজ-উল-আমিন রিয়েলকে (২৯) গুলি করে হত্যার খবরে গাজীপুরের বাড়িতে চলছে মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে নির্বাক একমাত্র বোনও। গতকাল সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের ইটাহাটা এলাকায় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে উত্তর পাশে রিয়েলের বাসায় গিয়ে

এ দৃশ্য দেখা যায়। বাড়িটি ঘিরে আছেন এলাকাবাসী, এসেছেন তার সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবরাও।

স্বজনরা জানান, রিয়েলরা দুই ভাইবোন। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা। ভগ্নিপতি মো. তালিম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই রিয়েল ছিল অত্যন্ত মেধাবী। সে শহরের রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি, ঢাকার সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করে। স্কলারশিপ নিয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করতে যায়। একই বছরের ১৮ এপ্রিল তার বাবা মো. রুহুল আমিন মারা যান। আগামী ১৬ ডিসেম্বর রিয়েলের দেশে ফেরার কথা ছিল। তার বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রিয়েলের মা ফেরদৌসী আমিন গৃহিণী। ২০২৩ সালে তার পিএইচডি শেষ হওয়ার কথা ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি লুইজিয়ানার একটি গ্যাস স্টেশনে সে খণ্ডকালীন চাকরি করত।’

রিয়েলের বন্ধু মো. আবু সাইদ বলেন, ‘রিয়েল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানো ছিল তার শখ। বিয়ের পর সে কোথায় হানিমুন করতে যাবে এবং ঘুরে বেড়াবে তা বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করত। প্রিয় বন্ধুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা রিয়েল একসময় টাইগার আইটিতে কাজ করত। তার লাশ কবে দেশে আসবে তা জানা নেই।’ দ্রুত লাশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন রিয়েলের ছেলেবেলার এই বন্ধু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত