রাশিদ খানের বলকে ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্টে ক্যাচ দিলেন সৌম্য সরকার। আফগান অধিনায়ক যেভাবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছুটলেন পাখা থাকলে রীতিমতো উড়তেন মনে হলো। বাংলাদেশের মতো টেস্ট দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে প্রথম টেস্টেই পূর্ণ আধিপত্যে জয় তুলে নিয়ে এরপর আফগানরা মোহাম্মদ নবীকে দিল গার্ড অব অনার। নবীর খুব প্রশংসা করে রাশিদ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বললেন, ‘আমি আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ আমাদের কিংবদন্তি নবিকে উৎসর্গ করতে চাই।’
আসলে নবি শুধু নয়, নিজেদের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় টেস্টটা যেভাবে খেলে ১১৫তম টেস্ট খেলা বাংলাদেশকে হারাল রাশিদ খানরা, তাতে তাদের পুরো দলই আসলে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের দাবি রাখে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ এবং প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া রাশিদ এই সংস্করণের স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা পারফর্ম করেছেন। শেষটায় বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়ে জয় তুলে আনার বড় কৃতিত্ব তার। কিন্তু রাশিদের মতো নবিও পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবুধাবিতে ভয়াবহ খরতাপের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়াটাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে গেলেন।
‘পুরো কৃতিত্বটা খেলোয়াড় আর সাপোর্টিং স্টাফদের। আবুধাবিতে আমরা প্রচ- গরমের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছি। এমন গরম জীবনে লাগেনি। এরপর এখানে এসে তুলনায় কাজগুলো বেশ সহজ হয়ে গেল-’ বলেছেন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আরেকটি রেকর্ড গড়ে ফেলা রাশিদ। তাদের দল তিন টেস্টের প্রথমটি (ভারতের কাছে) হারলেও টানা দুটি জিতল।
নবির কাছে প্রশ্ন ছিল একটু ভিন্ন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি নিয়মিত খেলোয়াড় বেশ আগে থেকে। যাদের সঙ্গে টেস্ট খেললেন তাদের প্রায় প্রত্যেককে চেনেন। কিন্তু সেই ব্যাটসম্যানরা এমনভাবে তাকে, রাশিদ ও জাহির খানকে খেললেন যেন কখনো স্পিন খেলেননি। ওটা দেখে অবাক হননি নবি?
কথাটা একটু ঘুরিয়ে নিজের দলের কৃতিত্বের দিকে নিয়ে গেলেন অভিজ্ঞ অল রাউন্ডার। সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘গেল তিন চার বছরের বিপিএলে আমি ও রাশিদ এখানে খেলেছি। আমাদের ব্যাপারে সবাই খুব ভালো করে জানে। কিন্তু রাশিদ এই বিশ্বে একেবারে ভিন্ন রকমের এক স্পিনার। তাকে এমন কন্ডিশনেও খেলা মোটে সহজ না। আর আমরা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের কোন দিকে সবলতা, কোথায় দুর্বলতা তা নিয়ে আগে বেশ কাজ করে নিয়েছি।’
ক্রিকেটীয় ওই প্রস্তুতির পাশে আবুধাবির কথা আসে নবির কথায়, ‘ক্যাম্পটা ছিল ১০ দিনের। প্রথম ৫ দিনের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। তখন তাপমাত্রা ছিল ৪৬, ৪৭ ডিগ্রির। এখানে এসে দেখলাম আর্দ্রতা আছে কিন্তু খুব গরম না। খুব দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিলাম। এই টেস্টের জন্য তাই আমাদের প্রস্তুতি ছিল খুব ভালো। এসব কারণে ছেলেরা ব্যাটিং-বোলিংয়ে দারুণ করেছে।’
যেখানে আফগানিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটকে রেখে যাচ্ছেন তা নিয়ে নবির বেশ গর্ব কাজ করছে, ‘এই জয়টা ঐতিহাসিক। কারণ, এই সংস্করণে আমরা নতুন। তিন ম্যাচ খেলে দুইটাই জিতলাম। তার মানে এই সংস্করণে আমরা ভালো এবং আমাদের ঘরোয়া অবকাঠামোও শক্তিশালী। এটা অসাধারণ দল। দেশের মতো তরুণদের হয়তো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষায়।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দারুণ ৩৪ বছরের এই খেলোয়াড়। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতেও চাহিদা আছে। কিন্তু কেন শুরু না হতেই শেষ করে দিলেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ার? ব্যাখ্যায় গেলেন নবি, ‘আফগানিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল আমার। আমরা কিন্তু খুব অল্প সময়ে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করেছি। ওই প্রজন্মের খেলোয়াড় হিসেবে আমি গর্বিত। আমার পরিকল্পনা হলো, তরুণরা সামনের টেস্টগুলোর জন্য তৈরি হোক, ওরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এ জন্যই টেস্ট ছেড়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে মন দিতে যাচ্ছি।’
