নির্মম বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে অনেক শিশু-কিশোর শৈশব ও কৈশোরের মায়া ত্যাগ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করে। হাতে কলম তুলে নেওয়ার বদলে তারা তুলে নেয় কাজের সরঞ্জাম। এসব শিশু হাতের কোমল তালুতে কলমের কালির দাগের বদলে আমরা দেখি ফোসকার দাগ। শ্রমের বাজারে তাদের চাহিদাও ব্যাপক। কারণ, বয়স অল্প হওয়ায় বোঝে কম, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না, অল্প মজুরিতে বেশি খাটানো যায়। এসব কারণে বর্তমানে প্রচলিত জাতীয় শিশু আইন ২০১৬ অনুযায়ী শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। সারা দেশেই এ আইন অমান্য করা হচ্ছে। এমনকি প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিশুশ্রম এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। হলের ক্যান্টিনসহ ক্যাম্পাসে অবস্থিত দোকানগুলোতে কাজ করছে অসংখ্য শিশুশ্রমিক। শিক্ষার অনন্য পরিবেশে তাদের বসবাস হলেও তারা কিন্তু সরিষা পরিমাণ শিক্ষার আলোও পায় না। তারা বঞ্চিত হয় ন্যায্য মজুরিসহ বিভিন্ন অধিকার থেকে। সস্তায় শ্রম পেলেও মালিক তাদের প্রতি কমই সুবিচার করে। তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালও সহ্য করতে হয়। প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় তাদের। ক্যান্টিনে বা দোকানে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক সহকর্মী দ্বারাও লাঞ্ছিত হতে হয় তাদের। সে বঞ্চিত হচ্ছে তার মৌলিক অধিকার শিক্ষা থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিশুশ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদের হাতে হাতুড়ির বদলে কলম তুলে দিয়ে বন্ধ হোক শিশুশ্রম।
সুমন আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
