সংসদে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫৩ এএম

জাতীয় সংসদে তামাক পণ্যের ওপর করারোপের পদ্ধতি নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয় বুঝতে না পেরে প্রথমে কণ্ঠভোটে ‘না’ এবং এরপর ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের হ্যাঁ ভোট দেওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কে জড়ান সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির দুই সংসদ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদের অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষমতাসীন দলের কোনো সদস্য কর্র্তৃক স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার ঘটনা সংসদে সাধারণত দেখা যায় না, যা এদিন দেখা গেল। তামাকজাত পণ্যের ওপর প্রচলিত অ্যাডভেলারাম (স্তরভিত্তিক মূল্যের শতকরা হার) পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানিয়ে বেসরকারি ওই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি তুলেছিলেন আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী।

সাবের হোসেন প্রস্তাবের পক্ষে বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যান। প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এ ছাড়া প্রায় ৬১ হাজার শিশু পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যমান আইনে তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের সুযোগ নেই। চলমান বাজেটে স্তরভিত্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে ক্রমান্বয়ে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো একদিন এটি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সাধারণত প্রস্তাবকারী সদস্য তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু সাবের হোসেন চৌধুরী তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার। 

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি ভোটে দেওয়ার সময় বলেন, সাবের হোসেন চৌধুরীর এই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হোক। যারা এর পক্ষে আছেন তারা ‘হ্যাঁ’ বলুন। এ সময় খুব কম সংখ্যক সদস্য হ্যাঁ বলেন। স্পিকার আরও বলেন, যারা এর বিপক্ষে আছেন তারা ‘না’ বলুন। এ সময় বেশিরভাগ সদস্য না বলেন।

এরপর স্পিকার সব সদস্যের মনোযোগ আকর্ষণ করে প্রস্তাবটি আবারও পড়ে শোনান এবং দ্বিতীয় দফা ভোট নেন। এবারে ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। একই সঙ্গে সাবের হোসেনের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

একপর্যায়ে স্পিকার অন্য বিষয়ে চলে যেতে চাইলে সাবের চৌধুরী কথা বলার সুযোগ চান। এ সময় তিনি দাবি করেন, প্রথমবার কণ্ঠভোটেই তার প্রস্তাব পাস হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননও তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত