রাজধানী শহরেরই একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল মেয়েটি। কোনো অজুহাতে স্কুল কামাই করা তার স্বভাববিরুদ্ধ। তাই সেদিন তলপেটে ব্যথা অনুভবের পরও যায় স্কুলে। স্কুলে ক্লাস চলাকালেই শুরু হয়ে যায় ঋতুস্রাব, রক্তের দাগ লেগে যায় ইউনিফর্মে। এজন্য স্কুলের এক শিক্ষক তাকে অপমান করে ক্লাস থেকে বের করে দেন। সেই অপমান সইতে না পেরে অভিমানী কিশোরী আত্মহত্যা করে।
ঘটনাটি ঘটেছে কেরিয়ার রাজধানী নাইরোরির পশ্চিমাঞ্চলের কাবিয়ানগেক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই খবর প্রচার করেছে বিবিসি। ১৪ বছরের ওই কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে অপমানে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে ফিরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি বলেন, স্কুলের পোশাকে দাগ লেগে যাওয়ার পর এক শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ‘নোংরা’ বলেন। অথচ ওই সময় তার কাছে এমন কিছু ছিল না যেটা সে প্যাড হিসেবে ব্যবহার করবে। যখন তার পোশাকে রক্তের দাগ লেগে যায় তখন এক শিক্ষক তাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে বলেন। এরপর মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসে এবং আমাকে সব কথা জানায়। আমি ওর জন্য পানি আনতে গেলে সেই ফাঁকে সে আত্মহত্যা করে।’
কিশোরীর বাবা-মা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পরে অন্যান্য অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে তারা মঙ্গলবার স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে। দুই শতাধিক অভিভাবক স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে এবং স্কুলের ফটক বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকে স্কুলটি বন্ধ আছে।
কোন পরিস্থিতিতে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক পুলিশ। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কেনিয়ায় ২০১৭ সালেই একটি আইন পাস হয়। যেখানে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ‘স্যানিটারি টাওয়েল’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আইন পাসের পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশটির সব স্কুলে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়নি। এ গাফিলতির কারণ জানতে সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
