আমাদের উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী শিক্ষাব্যবস্থা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম

গত ১ সেপ্টেম্বর দেশ রূপান্তরে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ’ শীর্ষক আমার লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশ থেকে আমি অনেক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কেউ কেউ বলেছেন দেশের উচ্চশিক্ষার কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে না পারার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী শিক্ষার নিম্নমান। সব নয় নিঃসন্দেহে, তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর ভিত্তি এত দুর্বল থাকে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নিয়ে তেমন করার কিছু থাকে না। এ ধরনের কথাবার্তা শুনে আমার মনে হলো, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পূর্বেকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটা সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করতে পারি।

 

দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাকে আমি একত্রে বোঝানোর জন্য উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী শিক্ষা বা প্রাক-উচ্চশিক্ষা বাv pre-higher education বলছি। এসব শব্দের অর্থ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও, অন্তত বর্তমান লেখার ক্ষেত্রে আমি দেশের উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী সব শিক্ষাব্যবস্থাকে একত্রে উল্লেখ করছি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এই তিনস্তরের শিক্ষায় যদি আমরা দেশের সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখি, তবে লক্ষ করব, আন্তর্জাতিকীকরণের ঢেউ এসব ক্ষেত্রকেও স্পর্শ করছে। যেমন অতিসম্প্রতি সরকার থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পর্যন্ত সব পর্যায়ে জিপিএ ৫-এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ প্রবর্তনের কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ।

 

আবার অনেক উন্নত দেশকে অনুসরণ করে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। আমরা আশা করি এই সিদ্ধান্তটি অনেক চিন্তাভাবনা করেই নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন শিশুদের জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই নিম্নমুখী না করে এবং দ্বিতীয়ত, উচ্চবিত্তদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় ইংরেজি মাধ্যমের শিশুদের তুলনায় যাতে বাংলা মাধ্যমের শিশুরা জ্ঞানের দিক থেকে পিছিয়ে না পড়ে। তবে উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে বিষয়টির আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি যাকে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে creative education system এই পদ্ধতির সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, বিতর্ক হয়েছে। আবার অনেকে দেশের বর্তমানে সার্বিক শিক্ষার নিম্নমানের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতিকে দায়ী করেন।

 

যারা সৃজনশীল পদ্ধতির সমালোচনা করেন, তারা আসলে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক প্রবণতা না জেনেই এ বিষয়ে অনর্থক সমালোচনা করেন। যারা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুটা পড়াশোনা করেছেন, তারা জানেন  creative education ev constructivism ev concept-based learning যাই বলি না কেন, এসব হচ্ছে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অত্যাধুনিক ধারণা বা তত্ত্ব, যেখানে শিক্ষাব্যবস্থার সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বৃদ্ধি বা সত্যিকারের জ্ঞান অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়। শিক্ষক একা বক্তৃতা দিয়ে যাবেন আর শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে এসে পরীক্ষা দেবে সনাতন এ শিক্ষা পদ্ধতি এখন শিক্ষাক্ষেত্রে পরিত্যক্ত হয়েছে। এখনকার শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক হবেন মূলত facilitato, ক্লাসরুম হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আলোচনায়-সমৃদ্ধ, জোর দেওয়া হবে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা সৃষ্টির ওপর। সুতরাং শিক্ষাদান এবং শিক্ষণের ক্ষেত্রে সৃজনশীল পদ্ধতির ধারণা একেবারেই অত্যাধুনিক একটি পদ্ধতি এবং এটি নিয়ে বিন্দুমাত্র সমালোচনার অবকাশ নেই। কিন্তু সমালোচনা হতে পারে আমাদের দেশে এর কারিকুলাম, প্রয়োগ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেটি এ পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে।

 

আমি নিজে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার এবং শিক্ষা নিয়ে কিছু পড়াশোনার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এ পদ্ধতি এখন অনেকটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের একটা ধারণা হয়েছে সৃজনশীল পদ্ধতি মানে সৃজনশীল প্রশ্ন। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে হয় অসমর্থ বা এতে এতটা সময় দিতে অনিচ্ছুক। এর ফলে যা হয়েছে তা মোটামুটি মারাত্মক। আমরা দেখছি গাইড বই, প্রাইভেট পড়ানো আর কোচিং সেন্টারের রমরমা ব্যবসা। আমি এটাও শুনেছি, সব পর্যায়েই অনেক শিক্ষার্থী নাকি কিছু কিছু টেক্সট বই খুলেও দেখে না। গাইড বই পড়ে তারা পাস করেও যায়। সব পর্যায়েই এক ধরনের প্যাটার্নড বা টাইপড প্রশ্নের একটি ধারা হয়ে গেছে, যা সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির মূল ধারণার সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। কিন্তু সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি তো শুধু প্রশ্ন বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে তাদের জ্ঞানের স্ফুরণ ঘটাবে, তারা প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে দেখবে, ভাষার কার্যকর ব্যবহার করবে, হাতেকলমে প্রাযুক্তিক জ্ঞান আহরণ করবে, যা তাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে। মূল্যায়ন তো শিক্ষার একটা অংশ মাত্র। অথচ সৃজনশীল পদ্ধতির পুরো ব্যাপারটাই এখন সবার কাছে হয়ে পড়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক।

 

আমি যতটুকু জেনেছি, সরকার এ ব্যাপারে শিক্ষকদের বহু ব্যয় করে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা এ জ্ঞান কতটুকু ক্লাসে প্রয়োগ করেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। একসময় প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে কম যোগ্যদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বিভিন্ন কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে অধিকতর শিক্ষিতদের নিয়োগ দেওয়া হলেও পূর্বতনদের অনেকেই এখনো শিক্ষকতায় রয়েছেন। যাদের দিয়ে এ ধরনের শিক্ষাপদ্ধতিতে ফললাভ কঠিন ব্যাপার। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের বা বেসরকারি স্কুল, কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে বেতন নিয়েও হতাশা আছে। কীভাবে সংসার চলবে, এটা যদি শিক্ষকদের ভাবতে হয়, তাহলে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে এর প্রভাব পড়বেই।

 

সবকিছু মিলিয়েই শিক্ষকদের আন্তরিকতা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির ডিসি রাজাপুর উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে হতাশ হয়ে ফেইসবুকে একটা পোস্ট দেন, যা পত্রপত্রিকায় এসেছে। তিনি লিখছেন, কোনো স্কুলে তেমন ছাত্র পাননি আবার কোনো স্কুলে শিক্ষক পাননি। একটা মাধ্যমিক স্কুলের অবস্থাও ভালো না। ক্লাসে শিক্ষক ছিল না। ছেলেমেয়েরা বাইরে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত। এক সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছুটি না নিয়েই কেনাকাটার জন্য বরিশালে গেছেন। হতাশ হয়ে ডিসি অবশেষে লিখেছেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জনগণের লাখ লখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ শিক্ষার হাল হলো এই। তার এই স্ট্যাটাসের নিচে সেখানকার আরও স্কুল নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন, যা এক কথায় চরম হতাশাজনক। তবে দেশের গ্রামগঞ্জের এই চিত্র আমাদের কারও কাছে তেমন অপরিচিত নয়। আমাদের দেশে শিক্ষকতা একটা মহান ও স্বাধীন পেশা হিসেবে বিবেচিত এবং শিক্ষকদের একাংশ যেকোনো নিয়মনীতি মানতে চায় না, সেটা তো ওপরের ঘটনাতেই স্পষ্ট। শিক্ষকদের মধ্যে যদি জবাবদিহি বা দায়িত্বশীলতার অভাব থাকে, তাহলে তারা কীভাবে সৃজনশীলতা শেখাবেন! সুতরাং শিক্ষা তো গাইডনির্ভর হয়ে পড়বেই। আমরা যখন পড়াশোনা শিখেছি, সে সময়ে কোনো ছাত্রের কাছে নোটবই পাওয়াটা মোটামুটি অসম্মানজনক ছিল। আর এখন কোচিং আর গাইডবই স্কুল, কলেজ আর টেক্সট বইয়ের স্থান দখল করে ফেলেছে। গাইড বিক্রি আর কোচিং এখন জীবিকার একটা স্বতন্ত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এত মানুষ এখান থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল যে, অদূর ভবিষ্যতে এসব বন্ধ করা সম্ভব হবে কি নাÑ সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

 

ভাষা বিশেষত ইংরেজি ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে আমরা খুব সফল হতে পারছি না। গত বছর বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এক সরকারি জরিপ থেকে জানা গিয়েছিল, পঞ্চম শ্রেণির শতকরা ২০ ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে তাদের নাম-ঠিকানা লিখতে পারে না। আমি আগেও আমার অন্য লেখাতে বলেছি, ভাষা শেখানো একটা টেকনিক্যাল ব্যাপার। খুব দ্রুত ভাষা শেখানোর এখন অনেক কায়দা-কানুন আবিষ্কৃত হয়েছে। ভাষা শেখানোতে সেগুলোর প্রয়োগ জরুরি। আসলে আমাদের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি দুই ভাষাতেই সমান দক্ষ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ইংরেজির ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বলতে পারি, নিজে ইংরেজি ভাষা জানা আর শেখানো এক কথা নয়। শিক্ষকতা করতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাটি হচ্ছে ইংরেজি, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখনো সব বইপত্র ইংরেজিতে। ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রে প্রফেশনাল ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটধারীদের যেমন  ELT, TESOL বা CELTA কোর্স সম্পন্নকারীদের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে এ রকম করা হয় এবং তারা একটু বেশি বেতন দিয়ে ইংরেজিতে নেটিভ স্পিকারদের নিয়োগ দেয়। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়াশোনা করা এবং সেই সঙ্গেELT, TESOL বা CELT সার্টিফিকেটধারীদের দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ বিবেচনায় ইংরেজি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

এইচএসসির ক্ষেত্রে আমি যেটা জেনেছি, আমাদের দেশের সিলেবাস অত্যন্ত ব্যাপক বিশেষত ইংরেজি মিডিয়ামের তুলনায়। দুই বছরেরও কম সময়ে সব শিক্ষার্থী এটা আয়ত্ত করতে হিমশিম খায়। আমাদের দেশে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি মিডিয়ামের ছেলেমেয়েরা বেশি ভালো করে না। আবার একই পর্যায়ে বিদেশে ভর্তি এবং স্কলারশিপের ক্ষেত্রে বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো করে না। এটি একটি বহুল প্রচারিত ধারণা, তবে আমার কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান নেই। আমি যেটা ধারণা করতে পারি যে, উভয় ক্ষেত্রেই ভাষা একটি বড় কারণ। তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের এইচএসসির কারিকুলাম পুরোটাই কাজে লাগছে কি না বা সব শিক্ষার্থী আদৌ কতটুকু আয়ত্ত করছে, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। 

 

আমি আবার আমার লেখার শুরুতে ফিরে আসি। আমার যেটা মনে হয়, উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন নীতিনির্ধারকের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় অপরিহার্য। যেমনÑ ইউজিসির সঙ্গে এনসিটিবির বা বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড বা প্রাথমিক শিক্ষা পরিদপ্তরের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। আমি জানি না এ ধরনের সমন্বয় হয়তো নিশ্চিতভাবেই আছে, তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো আমিও বিশেষত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে দেখেছি অনেক ছাত্রছাত্রীই আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ারই উপযুক্ত নয়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা পড়ছে অথচ শুদ্ধভাবে বাংলা বা ইংরেজি লিখছে ব্যক্তিগতভাবে এ রকম শিক্ষার্থী আমি খুব কমই পেয়েছি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা যখন বলেন, যোগ্যতা নিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে, তাতে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন বেশ কঠিনÑ আমরাও তা নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছুটা বিশ্বাস করতে বাধ্য হই। আসলে দেশের উচ্চশিক্ষা-পূর্ববর্তী শিক্ষার মান, কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন। 

 

লেখক

গবেষক ও কলামনিস্ট

[email protected]

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত