বলিউডে গল্পনির্ভর সিনেমায় আয়ুষ্মান খুরানা নতুন রাজকুমার। নিরীক্ষামূলক কমেডি ‘ড্রিম গার্ল’ নিয়ে আবারও চমক দেখালেন তিনি। ছবিটি দিল্লি ও ফরিদাবাদের পটভূমিতে নির্মিত। স্থানীয় মঞ্চে মহাভারত ও রামায়ণের নাট্যরূপে নারী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের এলাকায় সীতা ও রাধা নামে পরিচিত করম (আয়ুষ্মান)। নারীর কণ্ঠে সাবলীলতা যেমন কৌতুক তৈরি হয়, তেমনি করমকে অনেক সমস্যায় ফেলে। আর সব সমস্যায় তার পাশে থাকেন বন্ধু স্মাইলি (মনজৎ সিং)। দুজন মিলে হরিহর আত্মা।
করমের বাবা জগজিৎ (আন্নু কাপুর) মৃতদেহ সৎকারের সরঞ্জামাদি বিক্রি করেন। তিনিই একমাত্র অভিনেতা যিনি আয়ুষ্মানের পর দর্শকের মনোযোগ তার দিকে ফেরাতে বাধ্য করেন। এক সময় বাবার ঋণ শোধের জন্য করম চাকরি খুঁজতে বাধ্য হন। রাজেশ শর্মার ছোট ইলেকট্রনিকসের দোকানে চাকরি মেলে, যেখান থেকে গোপনে পরিচালিত হয় একটি কল সেন্টার। এসেই বাজিমাত করেন করম। পূজা নাম দিয়ে ফোনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই ছবির মূল মজা শুরু।
এরপর দর্শকের সামনে আসেন করমের প্রেমিকা মাহি (নুসরাত বারুচা), যদিও এই চরিত্রে নায়িকার তেমন কিছু করার ছিল না। কিন্তু যখন তার ভাই মহেন্দ্র (অভিষেক শর্মা) পূজার প্রেমে পড়েন গল্পে প্রথম মোচড়টি আসে। এদিকে আছেন মাতাল ও অলস কনস্টেবল রাজপাল (বিজয় রাজ) যিনি আবার কবি। ফোনে পূজাকে কবিতা শোনাতে শোনাতে প্রেমে পড়ে যান।
এভাবে পূজার কৌতুকপূর্ণ বাকোয়াজ ও তাকে নিয়ে অন্যদের ফ্যান্টাসি মিলে ‘ড্রিম গার্ল’-এ হাসির বন্যা বইয়ে যায়। তবে কৌতুক কখনো শালীনতার মাত্রা লঙ্ঘন করেনি। ছবিটিতে পরিচ্ছন্ন পারিবারিক বিনোদন বলা যায় অনায়াসে। অসংখ্য চরিত্র থাকলেও তারা দারুণভাবে গল্প ও অন্য চরিত্রগুলোর সঙ্গে মিশে গেছেন। সেভাবে নির্দিষ্ট অঞ্চলের উচ্চারণ ও আচরণ তুলে ধরেছে তা প্রশংসার যোগ্য। সব মিলিয়ে চিত্রনাট্য জমজমাট, যদিও কোথাও কোথাও পুনরাবৃত্তি চোখে পড়ে। তবে কোথাও মেঘ জমে না। ক্লাইম্যাক্সে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা হয়নি। দ্রুতলয়ে বার্তা দিয়ে শেষ হয়। এখানে ভাবনার অবকাশ ছিল।
দারুণ গল্পটি লিখেছেন পরিচালক রাজ সান্ধিলিয়া নিজেই। এটি তার প্রথম নির্দেশনাও। অবশ্যই তার অভিষেক প্রতিশ্রুতিশীল হয়েছে। তার সঙ্গে আছেন লেখক নির্মাণ ডি সিং। দুজনেই এই পরিশ্রমের জন্য প্রশংসার দাবিদার।
করম ও পূজা দুই চরিত্রেই শতভাগ দিয়েছেন আয়ুষ্মান খুরানা। বিশেষ করে জনিতা গান্ধীর কণ্ঠে ‘দিল কা টেলিফোন’ গানে তার ঠোঁট মেলানো দুর্দান্ত হয়েছে। এই থেকে অনুমান করা যায় পূজা চরিত্রকে কত গভীর থেকে অনুধাবন করেছেন আয়ুষ্মান। আর পুরো সিনেমাটি নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছেন। পাশে থেকে বোঝা খানিকটা হালকা করেছেন আন্নু কাপুর ও মনজৎ সিং। এছাড়া বিজয় রাজ, অভিষেক শর্মা, নিধি বিস্ট ও রাজ বানসালি হাততালি পাওয়ার যোগ্য। সব মিলিয়ে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র দিয়ে গড়া আয়ুষ্মানের ক্যারিয়ারের মুকুটে নতুন একটি পালক হিসেবে যুক্ত হলো ‘ড্রিম গার্ল’। ফিল্ম ফেয়ার অবলম্বনে লিখেছেন ওয়াহেদ সুজন
