চাপের মুখে কাউন্টার অ্যাটাকে গেলেন। মাথা ঠান্ডা রেখে ঠিকমতো লেংথ পিক করলেন, গ্যাপ খুঁজলেন, বাউন্ডারি বের করলেন। গড়লেন ৮২ রানের জুটি। হারতে থাকা দলকে ২ বল আগেই এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়। অথচ এর আগে তারা দুজনে মিলে খেলেছেন ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ!
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন এবং মোসাদ্দেক হোসেন লড়াকু ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হওয়ার আগে আফিফ করেন ৫২ রান। মোসাদ্দেক অপরাজিত থাকেন ৩০ করে।
জিম্বাবুয়ে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান করে। সাকিবের দল জয় তুলে নেয় ১৭.৪ ওভারে। বৃষ্টির কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ায় দুই ওভার কমিয়ে দেওয়া হয়।
আফিফের বয়স এখনো ১৯’র ঘরে। টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা বলতে দুই ম্যাচ। মোসাদ্দেক ২৩’এ পা দিলেও আগে খেলেছেন আট ম্যাচ।
আফিফ যখন ক্রিজে আসেন, তখন ৪০ বলে দরকার ছিল ৮০ রানের বেশি। সেখান থেকে মোসাদ্দেককে নিয়ে শেষ ১৮ বলে বাকি রাখেন ২৮ রান। এরপর ১২ বলে ১৫। ৬ বলে ৫!
শেষ ওভারে ফুলটস বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন আফিফ। ২৬ বলে আটটি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে অর্ধশতক ছাড়িয়ে যান। দুই বলে ছয় রানে ম্যাচ শেষ করেন অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন। ২৪ বলে দুই ছয়ে অপরাজিত থাকেন ৩০ রান করা মোসাদ্দেক।
বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে, রান আসে ৩৪! এই সময়ে একে একে ফিরে যান লিটন দাস (১৯), সৌম্য সরকার (৪), মুশফিকুর রহিম (০) এবং সাকিব আল হাসানের (১) মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা।
এই ধাক্কা কাটাতে নেমে মাহমুদউল্লাহ টিকতে পারেন ১৬ বল। দুই চারে ১৪ করে বিদায় নেন তিনি। সাব্বির রহমান করেন ১৫ বলে ১৫। এভাবে ৯.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারানোর সময় স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ৬০।
কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের কাছে বাজেভাবে টেস্ট হারা বাংলাদেশ যখন আরেকটি বিপদের মুখে, তখন মারতে থাকেন আফিফ-মোসাদ্দেক।
এর আগে দুই পেসার আর তিন স্পিনার দিয়ে ‘যৌথ আক্রমণ’ করে জিম্বাবুয়েকে শুরুতে চেপে রাখলেও শেষ দিকের ঢিলেঢালা বোলিংয়ে লক্ষ্যটা বড় হয়ে যায় বাংলাদেশের। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১৬তম ওভারেই দেন ৩০ রান!
অথচ শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ২০ ওভারের ক্রিকেটে এই রেকর্ড আছে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্মণ সান্দাকানেরও। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম বলে উইকেট নেন তিনি।
এদিন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এসেই উইকেট তুলে নেন তাইজুল। ব্রেন্ডন টেইলরকে (৬) মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান। তিনি আগে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি।
দ্রুত উইকেট হারানোয় প্রথম পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে আর মাথাচাড়া দিতে পারেনি। পাওয়ার প্লে শেষ হলে রান বাড়ানোর চেষ্টা করতেই সাজঘরে ফেরেন ক্রেইগ আরভিন (১১)। তাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।
চাপের মুখে লড়াই চালিয়ে যান ৩৬ বছর বয়সী হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ৩৪ রানে যেতে যেতে তাকে থামান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ২৬ বলে পাঁচটি চার এবং একটি ছয়ের মারের সাহায্যে এই রান করেন তিনি।
নবম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন শেন উইলিয়ামস (২)। মোসাদ্দেকের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর রান বাড়িয়ে নেন ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান রায়ান বুর্ল। ১৬তম ওভারে সাকিবের ঘাম ছুটিয়ে ৩০ রান নেন! এই ওভারেই হয়ে যায় তার অর্ধশতক। বুর্ল শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
সাকিব চার ওভারে মোট দিয়েছেন ৪৯ রান। কোনো উইকেট নেই। সমান ওভারে ২৬ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন সাইফ উদ্দিন।
তিন ওভারে ২৬ রান দেওয়ার পর তাইজুলকে দিয়ে আর বল করাননি সাকিব। ওই একটি উইকেটই তার সম্বল। মোস্তাফিজ দিয়েছেন ৩১ রান। তার শিকারও একজন।
মোসাদ্দেক তিন ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে একজনকে ফেরালেও চতুর্থ ওভার করার সুযোগ পাননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে: ১৮ ওভারে ১৪৪/৫ (টেইলর ৬, মাসাকাদজা ৩৪, আরভিন ১১, উইলিয়ামস ২, মারুমা ১, বুর্ল ৫৭*, মুটুমবদজি ২৭*; সাকিব ৪-০-৪৯-০, তাইজুল ৩-০-২৬-১, সাইফ ৪-০-২৬-১, মোস্তাফিজ ৪-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ৩-০-১০-১)
বাংলাদেশ: ১৭.৪ ওভারে ১৪৮/৭ (লিটন ১৯, সৌম্য ৪, সাকিব ১, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ১৪, সাব্বির ১৫, মোসাদ্দেক ৩০*, আফিফ ৫২, সাইফ ৬*; উইলিয়ামস ৩-০-৩১-০, জার্ভিস ৪-০-৩১-২, চাতারা ৪-০-৩২-২, বুর্ল ৩-০-২৭-১, মাদজিভা ৩.৪-২-২৫-২)
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।
