বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খোদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এ অভিযোগ করছেন। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজার থেকে উদ্ধারও করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থার মধ্যেই সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রুখতে গতকাল শনিবার প্রথম বৈঠক করেছে।
বৈঠকে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে এই শিল্পে আরও গতিশীলতা আসবে। আর তাই উভয়পক্ষ যেন একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার এম ফখরুল আলম বলেন, পোশাকশিল্পের মধ্যে মাত্র ১-২ শতাংশ ক্ষেত্রে বন্ডের অপব্যবহার হচ্ছে। সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, ওই ১-২ শতাংশকে যেন অন্যদের থেকে আলাদা চোখে দেখা হয়। বন্ড সুবিধা অপব্যবহারকারী ছাড়া অন্যদেরকে রপ্তানিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। এতে রপ্তানি বাণিজ্যে আরও গতি আসবে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, এই শিল্প যেন সম্মান আর সততার সঙ্গে উৎপাদন কর্মকা- পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন উভয়পক্ষের সংযোগ।
সভায় বন্ডের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চিহ্নিত বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারী পোশাক কারখানাগুলোকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মতামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে কারখানাগুলো মতামত দিয়েছে। মতামত পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি একই ধরনের নয়। এ বিষয়গুলো বিচার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান খোলাবাজারে কাপড় বিক্রিসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের বিষয়েও উভয়পক্ষ পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এই প্রবণতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে সভার সভাপতি এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, গার্মেন্টের ইউডিতে (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) সঠিক পরিমাণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পণ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা বিজিএমইএ’র নিজস্ব টিম দিয়ে গোপনে পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানান। এছাড়া ইউডি সংশোধনীর বিষয়টি যেন দ্রুতই সংশ্লিষ্ট সবাই অনলাইনে দেখতে পায় সে ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সততার সঙ্গে ব্যবসা করছে তাদের রপ্তানিতে এনবিআর সহায়তা করবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার এম ফখরুল আলম বিজিএমইএ’র কেন্দ্রীয় নেতাদের গার্মেন্টের কিছু কিছু অপঘোষণার বিষয়ে সরেজমিনে চট্টগ্রাম পরিদর্শনের অনুরোধ করেন।
সভায় বিজিএমইএ’র পক্ষে সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল (দীপু), পরিচালক বদিউল আলম, নজরুল ইসলাম, অঞ্জন শেখর দাস উপস্থিত ছিলেন।
