যমজ কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ বাবা গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৯ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাওনা এলাকায় নিজের কিশোরী যমজ মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। যমজ কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরীর মা জানান, প্রায় ২৫ বছর আগে তার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরে তার অনুমতি ছাড়াই আরও দুটি বিয়ে করে জাহাঙ্গীর। বিয়ের পরপরই তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে যমজ সন্তানদের নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য খরচ বহন না করলেও ওই বাড়িতে জাহাঙ্গীরের যাতায়াত ছিল। নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েদের সে ধর্ষণ করেছে।

শ্রীপুর থানার এসআই মিনহাজ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে যমজ কিশোরীর মা বাদী হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন এবং ওই রাতেই তাদের বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী জানান, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মাদকসেবনেরও অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

শরীয়তপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরী : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়ে করার কথা বলে নারায়ণগঞ্জের রায়গঞ্জে নিয়ে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা অপসারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কিশোরী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।

কিশোরীর অভিযোগ, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের ১০ তারিখে বাবুল নামে এক বখাটে তাকে ধর্ষণ করে। কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে সে। প্রায় পাঁচ মাস পর নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত কিশোরীর দাদি ও চাচির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ে করার কথা বলে বাবুল। বিয়ের কথা শুনে কিশোরী নারায়ণগঞ্জ আসে। গত ৫ মে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে ওই কিশোরীর একটি মৃত কন্যাসন্তান হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। গ্রামের বাড়িতে এসে ওই কিশোরী বাবুল ব্যাপারীর কাছে তার বিয়ের কথা বললে উল্টো তাকে অপবাদ দিতে থাকে। অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে তার পেটের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যায়।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার মেয়ের সঙ্গে অবিচার করা হইছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যাতে আমার মাইয়ার মতো আর কারও এমন ক্ষতি করতে না পারে।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত বাবুল ব্যাপারীর বাড়িতে গেলে সে এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম ব্যাপারী বলেন, এই ঘটনায় মেয়েটির পরিবার আদালতের কাছে বিচার চেয়েছে। বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। আমি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাই না।

মামলার আইনজীবী ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট  রওশন আরা বেগম বলেন, আমি আইনজীবী হিসেবে মামলাটি পরিচালনা করছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ফরিদপুরকে  তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত