দুই ভারপ্রাপ্তের দ্বন্দ্ব ২১ জনের বেতন বন্ধ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০৫ পিএম

দুই শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট হওয়ার দ্বন্দ্বের জাঁতাকলে পড়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মটুকপুর ভোকেশনাল উচ্চবিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষক-কর্মচারীসহ ২৬৩ শিক্ষার্থী। দুই শিক্ষককের দ্বন্দ্বে প্রশাসনিক কাজ  ও শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পাঠদানের অচলাবস্থায় কমেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার। পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ আছে প্রতিষ্ঠানটির। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সেখানে কর্মরতরা।

গত রবিবার গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির নবম ও দশম শ্রেণিতে ২৬৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২১ জন উপস্থিত রয়েছে। নবম শ্রেণির ১৯০ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন এবং দশম শ্রেণির ৭৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন হাজির ছিল।

অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির ২১ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে কাগজে-কলমে ১৯ জন উপস্থিত দেখানো হলেও ১৪ শিক্ষককের মধ্যে পাঁচজন এবং সাত কর্মচারীর মধ্যে একজন পিয়নকে বিদ্যালয় চত্বরে পাওয়া যায়।

অভিভাবকরা জানান, ২০০৫ সালের শেষের দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় শিক্ষক এরফান ইসলাম ও আবদুল মান্নানের মধ্যে। তাদের সেই দ্বন্দ্বের জের গড়ায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেন বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে। এদিকে ওই দুই শিক্ষকের পক্ষে-বিপক্ষে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান নেওয়ায় কেউ কারও কথা মানছেন না। এতে করে প্রশাসনিক অচলাবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদানব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাদের দ্বন্দ্বের কারণেই গত এপ্রিল থেকে বেতন-ভাতা তুলতে পারছেন না সেখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা।

অন্য শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট এরফানুল ইসলাম ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কারণে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান। সে সময়ে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. জাকারিয়া দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় তৃতীয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দেয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট পদটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে আমরা গত এপ্রিল মাস থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। বিদ্যালয়েন নবম ও দশম শ্রেণির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে ক্লাসে খারাপ প্রভাব পড়ছে, বেতন না পেলে ক্লাসে তাদের আন্তরিকতা থাকে না। এ কারণে অনেকেই স্কুলে আসছে না। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বললে এরফান ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আমিই ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট।’

সহকারী শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আবদুল মান্নান নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলহাজতে ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করে জেলহাজতে থাকার সময়টাকে ছুটি দেখানো হয়েছে।’

এসব বিষয়ে আবদুল মান্নান বলেন, এরফান ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সুপারের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর ব্যবস্থাপনা কমিটি আমাকে সে দায়িত্ব দিয়েছে। বর্তমানে আমি ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী এরফান ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছি। কিন্তু আবদুল মান্নান তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এ কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত