শিশুকন্যাকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ মায়ের

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৫৭ এএম

নীলফামারীতে তিন বছরের শিশুকন্যা বৃষ্টিকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা টুলটুলি বেগম (২৩)। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের দারোয়ানী রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত টুলটুলি সোনারায় ইউনিয়নের ধনীপাড়া গ্রামের তারেক হোসেনের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী সৈয়দপুর উপজেলার কয়া গলাহাট পশ্চিমপাড়ার বুদারু মামুদের মেয়ে। স্থানীয় কয়েকজন  জানান, সোমবার সকাল সাতটার দিকে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে ঘটনাস্থলে নিহত হন টুলটুলি বেগম ও তার শিশুকন্যা। 

এ ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

টুলটুলি বেগমের বড় ভাই দুলাল হোসেন (৩০) অভিযোগ করে বলেন, ‘ছয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তারেক হোসেন মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রায় সময় আমার বোনকে নির্যাতন করত। বিভিন্ন কারণে ২০১৭ সালের দিকে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়িও হয়। পরে আবার তারা সংসার শুরু করে। রবিবার আমার বোনের একটি কানের দুল সে বিক্রি করে। এ নিয়ে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয়। একপর্যায়ে সে আমার বোনকে বেদম প্রহার করে। এ কারণে রাগে-দুঃখে ভাগনিকে নিয়ে বোন ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

তারেকের প্রতিবেশী রুবেল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতের মতো প্রায় রাতেই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতো। সকালে খবর পাই তারেকের বউ আত্মহত্যা করেছেন। এর আগেও টুলটুলি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। অভাবের সংসার রাগারাগী হতো। দুল নিয়ে রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুনেছি। পরে সকালে জানতে পারলাম টুলটুলি আত্মহত্যা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুলটুলি বেগমের শ্বশুর হামিদুল ইসলাম (৬৫) বলেন, রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সকালে বউমা তার বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে লোকমুখে জানতে পারি আত্মহত্যার খবর। তারেক (তার ছেলে) বাদাম-বুট ফেরি করে বিক্রি করে। ছেলে মাদকাসক্ত নয় দাবি করেন হামিদুল। এ বিষয়ে জানতে তারেককে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে টুলটুলি বেগম আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়িও (তালাক) হয়েছিল। পরে আবার তারা বিয়ে করে। তারেক মাদকাসক্ত হতে পারে বলেও তার ধারণা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক ফিরোজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মা ও মেয়ের মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠাই। এ ঘটনায় সৈয়দপুর জিআরপি থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত